পরশুরামের সীমান্তবর্তী কহুয়া নদীর বাংলাদেশ অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। বৃষ্টির আগে দ্রুতগতিতে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২০০৩ সালে প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করা হয়। গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্বপাশে সিসি ব্লক ফেলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজও শুরু করা হয়। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার মুখে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ভারতের আপত্তির মুখে বন্ধ থাকে। ২০২৪ সালের বল্লামুখার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন তৈরি হলে কোলাপাড়া ও নিজ কালিকাপুরে তৈরি করা সিসি ব্লকগুলোর কিছু সেখানে ফেলা হয়।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের ২১৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া সংলগ্ন আমজাদনগরে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও বাংলাদেশের অংশে পরশুরাম বাজার সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।
এদিকে দুইপক্ষের সমঝোতার পর কহুয়া নদীর ওপারে ভারতের অংশে কাজ শুরু হলেও অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া নিয়ে দৈনিক ফেনীতে ‘পরশুরামের কহুয়া নদীতে ভারতের বাঁধ নির্মাণ শুরু, বাংলাদেশ বাঁধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্ধ দেয়নি পাউবো’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত বাঁধটি নির্মাণ না হলে বন্যায় উত্তর কোলাপাড়া, বাসপদুয়া ও পরশুরাম বাজারসহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেড়িবাঁধের কাজ উত্তর কোলাপাড়া বড় কবরস্থান সংলগ্ন বাঁধ পর্যন্ত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ছুট্টু মিয়া বলেন, গত বন্যার সময় আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ভারতের অংশে নির্মাণ কাজ শেষপর্যায়ে। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ভারতীয়রা বাঁধ তৈরির পর এখানে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে দিতে পারে। আমাদের এখানে ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করছেন।
নুরুল করিম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর এই বাঁধটি বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ভারত ওপাশে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করলে বাংলাদেশ অংশে বেড়িবাঁধ দ্রুত নির্মাণ করা না হলে বৃষ্টি এলে নদীতে পানি বাড়বে। আর এতে বাঁধ ভেঙে পরশুরাম বাজার, উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে বাঁধ নির্মাণে মাটির সংকট, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার।
ঠিকাদার তাজুল ইসলাম বলেন, জরুরিভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে মৌখিক আদেশ দেওয়া হয়েছে। মাটির সংকটে দ্রুতগতিতে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাঁধ নির্মাণে কোন অর্থ বরাদ্ধ পাইনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের যেসব কাজ করেছি সেগুলোর অর্থও এখনো পাইনি।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, জরুরিভিত্তিতে কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। আশা করি বৃষ্টির আগেই বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
