জীবনের ৬৫ বছর পেরিয়ে এবারই প্রথম কোরবানি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা মোকছেদ মিয়া। বাপ-দাদারাও কখনো কোরবানি দিতে পারেননি-এমন স্মৃতি নিয়েই বড় হয়েছেন তিনি। ঈদের মাংস রান্নার জন্য তেল-মসলা কেনার সামর্থ্য না থাকলেও স্থানীয়দের উদ্যোগে উপহার হিসেবে একটি ছাগল পাওয়ার পর এবার তার পরিবারে যুক্ত হয়েছে নতুন আনন্দের উপলক্ষ্য। উপহারের সেই ছাগলেই খুশির ঈদ দেখছেন মোকছেদ ও তার পরিবার।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদ মিয়া একজন অসচ্ছল মানুষ। একসময় দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ চালালেও গত কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার চার মেয়ের মধ্যে তিনজন মানসিকভাবে অসুস্থ এবং একজন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। আসন্ন কোরবানির ঈদে অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া মাংস রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় তেল-মসলা কেনার সামর্থ্যও ছিল না তার। এজন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতার আশায় একই গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দিন ভূঁইয়া জুয়েলের কাছে যান তিনি।

জুয়েলের সঙ্গে আলাপকালে মোকছেদ জানায়, তিনি জীবনে কখনো কোরবানি দেননি। শুধু তিনি নন, তার বাবা কিংবা দাদারাও কখনো কোরবানি করতে পারেননি। বিষয়টি জানার পর আরও দুজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন জুয়েল। পরে তারা পার্শ্ববর্তী ধনীকুন্ডা পশুর হাট থেকে একটি ছাগল কিনে দেন। সঙ্গে কোরবানির পর রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় তেল-মসলাও পৌঁছে দেওয়া হয় মোকছেদ মিয়ার বাড়িতে।

মোকছেদ মিয়া বলেন, আমি কখনো কোরবানি করিনি। আমার বাবা-দাদাও করেছে বলে মনে পড়ে না। এবার প্রথমবারের মতো কোরবানি দেব। ছাগলটা কিনে দেওয়ায় আমি আর আমার পরিবার অনেক খুশি। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের জন্য দোয়া করি।

নুর উদ্দিন ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, তেল-মসলা কেনার জন্য তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। কথা বলতে গিয়ে জানতে পারি, তিনি কখনো কোরবানি দেননি। তখন দুইজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই তাকে একটি ছাগল ও প্রয়োজনীয় মসলা উপহার দেব। ছোট এই উদ্যোগের মাধ্যমে তার পরিবারের ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।