অবশেষে পরশুরামে যোগ দিয়েছেন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া। গতকাল রোববার (২৪ মে) বিকেলে পরশুরামে আসেন তিনি। এসময় উপজেলা পরিষদের সামনে নবাগত ইউএনও’কে ফুল দিয়ে বরণ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম শাফায়াত আখতার নূরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানপত্র দাখিল করে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

গত ২০ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অতনু বড়ুয়াকে পরশুরাম উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি বিসিএসের ৩৬তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। এর আগে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অতনু বড়ুয়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকায় বিভিন্ন মোবাইল কোর্ট ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, পরশুরাম উপজেলায় গত দুই বছরে পদায়নকৃত ৫ জন ইউএনও যোগদান করেননি। পদায়ন বা বদলি হওয়ার পরও কেন এ উপজেলায় যোগ দিতে চান না এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাদিয়া সুলতানা ইউএনও হিসেবে যোগদান করার ৪ মাসের মধ্যে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল সাদিয়া সুলতানাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম শাফায়াত আখতার নূর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত এক মাসে পরশুরামে দুইজন ইউএনওকে পদায়ন করা হলেও তারা যোগদান করেননি। ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ইউএনও সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া এবং পরে ৩ মে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ইউএনও হাসনাত জাহান খানকে পরশুরামের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হলেও পরে সে আদেশ বাতিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে ‘‘পরশুরামে ইউএনও পদ ‘অপছন্দের পোস্টিং’ কেন?’’ শিরোনামে দৈনিক ফেনীতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফেনীর ক্ষুদ্র ও ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামে বদলিকে শাস্তিমূলক পোস্টিং হিসেবে দেখেন। এজন্য অনেক কর্মকর্তা এখানে যোগদানে অনাগ্রহ দেখান।