পরশুরামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে পরীক্ষার্থীদের। এছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে খেতে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় ধানের উৎপাদন নিয়ে কৃষকের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন মানুষ।

‎উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, পরশুরাম উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২০০ হেক্টর। কিন্তু বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো ধানের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলায় ২৮৯টি সেচপাম্প দিয়ে বোরো ধান চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। 

পরশুরাম পৌরসভার অনন্তপুর গ্রামের চাষী আবুল কাশেম জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সঠিক সময়ে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে কাঙ্খিত ফসল পাবো না, আমরা চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

এদিকে এবার পরশুরাম উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে

‎মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাও বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রাপ্তিতে হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। 

পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আকলিমা আক্তার বলেন, প্রচুর গরমের মধ্যে যোগ হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। পড়ার টেবিলে বসতে পারি না। ভালো ফলাফল করতে পারব কিনা জানিনা।

পৌরসভার ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা নাজনীন বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময়ের এই লোডশেডিংয়ে বাচ্চাকে নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দিনে যা-তা, রাতে বেশি কষ্ট হয়।

পরশুরাম উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আখতার বলেন, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে। উপজেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট।