পরশুরামে শালধর-বেকের বাজারের মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। দুই গ্রামের চলাচলের একমাত্র সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।

উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের শালধর বাজার থেকে বেকের বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের সড়কটিতে চার বার বরাদ্দ দিয়ে ১ কিলোমিটার সড়কে ইটের সলিং করা হয়েছে। এখনো আধা কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়ে গেছে। এ জনপদের অধিবাসীদের বিকল্প কোন রাস্তার ব্যবস্থা না থাকায় নদীর বেড়িবাঁধের এ সড়কটি যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। বেড়িবাঁধের কাঁচা সড়কটি গত দুই দশক ধরে উত্তর শালধর বেকের বাজারের প্রধান সমস্যা। বৃষ্টি দেখা দিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই গ্রামের ৫ হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। রাস্তা যেন পরিণত হয় চাষের জমিতে। বন্যা ঝুঁকিতে থাকেন আশপাশের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

‎সরেজমিনে জানা গেছে, সড়কটি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম। অল্প বৃষ্টিতে অভিশাপ নেমে আসে কাঁচা এই সড়কটিতে। বৃষ্টি শুরু হলে অটোরিকশা, সিএনজি, চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দুর্ভোগে পড়েন উত্তর শালধর গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ। স্কুল, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাত্র ছাত্রী স্কুলের আসা যাওয়ার সময় কাঁদায় পিছলে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। টানা বৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে আনা নেওয়া চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সড়কটির দক্ষিণে রয়েছে দক্ষিণ শালধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরে উত্তর শালধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও শালধর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা আসার একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি।

এলাকাবাসীর দাবি, শালধর বেকের বাজার দুই কিলেমিটার রাস্তাটি পাকা করে একটি টেকসই সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

শালধর মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক কাজী আতিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি হলে ছাত্রছাত্রীদের কষ্টের সীমা থাকে না। এই রাস্তার কারণে ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ হারুন জানান, বৃষ্টি শুরু হলে মালামাল আনা নেওয়া অনেক কষ্ট। দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়। এতে ব্যবসায় লোকসান গুণতে হয়।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব হোসাইন বলেন, বেড়িবাঁধ ব্যবহার করে লোকজন সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। প্রকল্প দিয়ে কয়েক দফায় সড়কটি মেরামত কিছু স্থানে ইটের সলিং বসানো হয়েছে।উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।

চিথলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক জানান, বেড়িবাঁধের সড়কটি পাকা না করায় মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নতুন বরাদ্দ এলে কাঁচা রাস্তাটি টেকসইভাবে নির্মাণে চেষ্টা করব।