দৈনিক ফেনীতে সংবাদ প্রকাশের পর অন্ধকার দূর করে বাতি জ্বলছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাগলনাইয়ার সেই জাহেদা আক্তারের (৪৪) ঘরে। গত ২৭ নভেম্বর জাহেদার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ করেছে ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এি বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ছাগলনাইয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, জাহেদা আক্তারের ঘরটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। তিনি জানান, তিনি নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করাতে সংযোগ না স্থাপনে বিলম্ব হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ এর ভয়াবহ বন্যায় ছাগলনাইয়ার বাঁশপাড়া বক্সআলী পাটোয়ারী বাড়ীর জাহেদা আক্তারের বসতঘরটি ধ্বসে পড়েছিলো। এতে সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েন তিনি। নতুন ঘর তৈরির সক্ষমতা না থাকায় বন্যা পরবর্তী বেশকিছু দিন স্বামী সন্তান নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয় জাহেদা। এরই মাঝে স্বামীর ভিটায় ছোট্ট একটি ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ছাগলনাইয়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ঘর নির্মাণ শেষে আবেদন করার পরামর্শ প্রদান করে। ঘর নির্মাণ শেষে জাহেদা বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে আবেদন করার আড়াই মাস পরও সংযোগ স্থাপনে গড়িমসির অভিযোগ করেন পল্লী বিদ্যুৎ ছাগলনাইয়া জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ২০ নভেম্বর দৈনিক ফেনী পত্রিকায় ‘চব্বিশের বন্যায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘরে এখনো বাতি জ্বলেনি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর গত ২৭ নভেম্বর জাহেদার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহেদা আক্তার জানান, বন্যায় সহায়সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। পরবর্তীতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে ছোট্ট একটি ঘর নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে আবেদন করার পর বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। ঐ টাকা দিতে না পারায় আবদনের আড়াই মাস পরও আমার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে দৈনিক ফেনী পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিনা খরচে আমার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেছে। তিনি জানান, এখন আমার ঘরে আলো জ্বলছে। স্বামী সন্তান নিয়ে আমি এখন ভালো আছি।
