সারা দেশের ন্যায় ফেনীর ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। সরকারি এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) থেকে ফেনীতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে (হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএস) শিক্ষকদের হাজিরা মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলায় ১৫১টি, দাগনভূঞায় ১০২টি, সোনাগাজীতে ১১০টি, ছাগলনাইয়ায় ৭৮টি, ফুলগাজীতে ৬৭টি এবং পরশুরামে ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এতে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষক পাঠদান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকেন। অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে না গিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন তদবিরে ব্যস্ত থাকেন। তবে মাস শেষে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেন। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদেরকে ধরতে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষকদের তদারকি করতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতির অভিযোগও রয়েছে। সহকারী শিক্ষা অফিসারদের নিয়মিত বিদ্যালয় তদারকি করার নিয়ম থাকলেও তারা দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন। বিদ্যালয় পরিদর্শন না করে শিক্ষকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে থাকেন।
এ ব্যাপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, প্রথম দিনে ৬ উপজেলা থেকে শিক্ষকদের উপস্থিতির তালিকা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এভাবে নিয়মিত তদারকি করা হলে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। অভিভাবকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি বিমুখ হবেন না এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খালেদা পারভীন বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে সদরের ৯৮ শতাংশ শিক্ষক উপস্থিত হয়েছেন। তথ্যগুলো চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু শিক্ষক হজে, সহকারী মহিলা শিক্ষকেরা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। সহকারী শিক্ষা অফিসার সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে পুরোপুরি মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, উপস্থিতি সকাল ৯টার পরিবর্তে ১০টা করলে শিক্ষকদের জন্য সুবিধা হবে। এর আগেও শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। তদারকির অভাবে তা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মান ও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকি ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। অভিভাবকরা দিন দিন মাদ্রাসামুখী হচ্ছেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে হলে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
জানতে চাইলে বিজয়সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ৯টার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব তথ্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। এভাবে তদারকি করা হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অধিদপ্তরের পরিদর্শন ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে বা ভুল তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলার ‘ক্লাস্টার’ পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ইউইও বা এটিইও) এর অ্যাডমিন হবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এবং হাজিরা খাতার ছবি ওই গ্রুপে পাঠাবেন। তবে ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। কোনো কারণে বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন হলে স্কুল শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে তথ্য দিতে হবে।
