আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) ফেনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে এখনো কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক একে মোহাম্মদ সামছুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হলেও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে প্রাথমিকে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বিদ্যালয়ে এলেও শ্রেণি কার্যক্রম না থাকায় খেলাধুলা করে সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে জানা গেছে, ফেনী শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চাড়িপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার উত্তর লেমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধুয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মবিরতি পালন করা কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দাবি পূরণ না হলে তারা বার্ষিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন না। চলতি বছর বেশ কয়েকবার এ নিয়ে আন্দোলন করলেও এখন পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণ হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর ঢাকা সহকারি শিক্ষকরা আন্দোলন করেন। এসময় পুলিশের হাতে অনেক শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের দাবি পূরণ করার আশ^াস দেওয়া হলে তারা বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দাবি পূরণ করা না হলেও শিক্ষকরা ফের আন্দোলন শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৪৫ জন সহকারি শিক্ষক রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ফেনী সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মৌমিতা পাল জানান, ১৯৯৪ সালে সহকারি শিক্ষক হিসেবে তিনি চাকুরীতে যোগ দেন। আগামী ২০২৮ সালে তার অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করলেও তিনি এখনো একই পদে রয়ে গেছেন। কোন পদোন্নতির সুযোগ হয়নি তার। পরিবর্তন হয়নি বেতন গ্রেডও।
একই প্রসঙ্গে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ২৬ বছর ধরে তিনি সহকারি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। কোন পদোন্নতি হয়নি। অন্যান্য পেশায় পদোন্নতি ও বেতন গ্রেড সবকিছু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিকে সহকারি শিক্ষকরা এখনো সবদিকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। এছাড়া কোন বিকল্প নেই।
ফেনী পাইলট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ দিবা জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। বার্ষিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বছর জুড়ে শিক্ষকদের একাধিকবার কর্মবিরতিসহ নানা কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি বিমুখতা তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সারাবছর শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পড়ালেখা তেমন হয়নি। বার্ষিক পরীক্ষার সময়ও শিক্ষকদের কর্মবিরতি মেনে নেওয়া যায় না। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে সন্তানদের পড়াশোনা করাবেন কিনা এ নিয়ে তারা সন্দিহান। ইতোমধ্যে অনেকে সন্তানদের মাদ্রাসা কিংবা বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিভাবকরা আরও জানান, করোনা মহামারীর পর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমেছে। তাদের অনেকে এখন মাদ্রাসামুখী হয়ে গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিকে পড়াশোনার মান কমে গেছে। বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও গোহাডুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, ডিজি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোন ভাবে পরীক্ষা নিতে হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সহকারি শিক্ষকদের উপস্থিতি ছাড়া কিভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা র্ফিরোজ আহাম্মদ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে। এজন্য সকল শিক্ষা কর্মকর্তারা পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
