ফেনী শহরে জহিরিয়া মসজিদের পাশে একটি বাসায় ও ডাক্তারপাড়ায় আইনজীবীর চেম্বারে দিনে-দুপুরে চুরির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বেড়েছে। চোরের দল বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসায় না থাকায় গত ১২ জুন দুপুরে জহিরিয়া মসজিদের পাশে ফাহাদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় চামড়া ব্যবসায়ী শাহজাহানের বাসায় তালা কেটে প্রবেশ করে একজন চোর। এসময় বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীর ছেলে মো. মোজাম্মেল হক শাওন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চুরির সব তথ্য থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত চোরকে ধরতে পারেনি। তারা দাওয়াতে যাওয়ার কারণে ওইসময় বাসায় কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে চোর বাসায় ঢুকে চুরি করে পালিয়ে যায়। এভাবে চুরির ঘটনায় বাসার ভাড়াটিয়াদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অন্যদিকে গত ১৩ জুন দুপুরে ডাক্তারপাড়ায় সিনিয়র কাশেমের চেম্বারের গ্রিল কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়েছে। একইদিন শহরের ডাক্তারপাড়ার হেরা এপেক্স নামে একটি ভবনের পঞ্চম তলায় ব্যাচেলর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২৬ মে পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার শহীদ ওয়ায়েজ উদ্দিন সড়কের এসকে হাউজে এক সরকারি কর্মকর্তার বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল বাসার তালা ভেঙে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

এর আগে ২৫ মে শহরের তাকিয়া রোডের দাওয়াখানা প্রেসের মালিক আবদুর রহমান আলমগীরের নাজির রোডস্থ আবু লায়েস লেনের বাসার জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে আলমারি থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ নগদ ৬০ হাজার টাকা চুরি করে চোরেরা।

এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, তিনি অভিযোগ শুনেছেন। চোরদের শনাক্ত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম জানান, চোরদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন। এলাকায় বহিরাগত বা অপরিচিত কাউকে দেখলে পুলিশকে খবর দিতে বলেন তিনি। চুরি, ছিনতাই রোধে পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।