ফেনী পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ফের পদায়ন পেয়েছেন মো. আজিজুল হক। এর আগে দুই দফায় তিনি একই কর্মস্থলে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুনরায় পদায়নের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ তার বিরুদ্ধে পূর্বে ওঠা নানা অভিযোগ।
গতকাল বুধবার (৩ জুন) নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভা থেকে তাকে ফেনী পৌরসভায় বদলির আদেশ জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত একই আদেশে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনকে তারাব পৌরসভায় বদলি করা হয়।
আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ফেনী পৌরসভায় অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভবনের নকশায় প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর জাল করে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক ফেনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া একটি নকশায় দেখা যায়, শহরের রামপুর এলাকার হাজী ইমাম বক্স সড়কের একটি আবাসিক ভবনের নকশায় ‘সয়েল টেক ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট’-এর প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন নামে একজনের স্বাক্ষর রয়েছে। খোঁজ নিয়ে ওই নামে কোনো প্রকৌশলীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ নকশাটি ফেনী পৌরসভা থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আরেকটি দাখিলকৃত নকশায় প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়ার স্বাক্ষর রয়েছে এবং সেটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়া জানান, তিনি নকশা প্রণয়নের কাজ করেন না এবং নকশায় থাকা স্বাক্ষরটিও তার নয়।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুল হক দৈনিক ফেনীকে বলেন, এমন অভিযোগ আগেও এসেছে, তদন্তও হয়েছে। এসব নিয়ে আর কথা বলতে চাই না।
