ফেনীতে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হাতের রগ কেটে যাওয়া ও গুরুতর জখম হওয়া অন্তত ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসব আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পিয়াস কান্তি পাল।
তিনি জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। আহতদের বেশিরভাগের হাত, আঙুল ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত হয়েছে। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসায় নিয়োজিত পলাশ বলেন, “সকাল থেকেই একের পর এক আহত রোগী এসেছে। বেশিরভাগের হাতের আঙুল ও রগ কেটে গেছে। কেউ গরু ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন, আবার কেউ মাংস কাটার সময় ধারালো দা বা ছুরির আঘাতে জখম হয়েছেন। আমরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠিয়েছি।”
চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফেনীর বালুকিয়া এলাকার মো. জাহিদ (৩০)। সকালে গরু জবাইয়ের সময় তার হাতের রগ কেটে যায়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এছাড়া সকাল ১০টার দিকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বিজবাগ এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মনসুর (৪০) গুরুতর আহত অবস্থায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এলে তাকেও চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।
মনসুরের স্বজন আবদুল কাদের বলেন, “মাংস কাটার সময় দা হাতের ওপর পড়ে গভীর ক্ষত হয়। ফেনী হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার জানান রগ কেটে গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।”
জাহিদের স্বজন মো. রাসেল বলেন, “গরু জবাই করার সময় হঠাৎ ছুরি পিছলে হাতে লাগে। পরে রক্ত বন্ধ না হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন।”
একইভাবে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার সেরাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৮) আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
