ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া এলাকায় ড্রেন সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার এক মাস পার হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। এতে খোলা ড্রেনের দুর্গন্ধ, ময়লা-পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ডাক্তারপাড়া এলাকার সংস্কারের জন্য ড্রেনের ওপরের স্ল্যাব ভাঙা হয়। কিন্তু এরপর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। খোলা অবস্থায় ড্রেনটি পড়ে থাকায় ময়লা-পানি উপচে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২ মার্চ ফেনী পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ডাক্তারপাড়া এলাকার আজাদ মেডিকেলের মালিক মো. রাশেদুল হাসান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, খোলা ড্রেনের দুর্গন্ধে দোকানে বসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ময়লা-পানির দুর্গন্ধে ক্রেতারাও দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তারা আরও জানান, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কার কাজ শুরু না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন বলেন, পিডিএলের সঙ্গে পৌরসভার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের কিছু ঝামেলার কারণে এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। রমজান মাস শেষ হলে সংস্কার শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ফেনীর উপপরিচালক ও ফেনী পৌর প্রশাসক নবীনেওয়াজ বলেন, এ ব্যাপারে পিডিএলকে নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বড় নির্মাণ প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন,এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করে থাকে। গত বছরের অক্টোবর মাসে ফেনী পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২৯ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর অভিযোগ
ফেনী পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারপাড়া এলাকায় ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে ফেলে দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খোলা ড্রেন থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দোকানে বসে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাশেদুল হাসান জানান, তার প্রতিষ্ঠান আজাদ মেডিকেল হল-এর সামনে প্রায় দেড় মাস আগে ড্রেন সংস্কারের কথা বলে স্ল্যাব ভাঙার পার ঠিকাদারের আর দেখা মেলেনি। এরপর থেকে আর কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
তিনি বলেন, তদারকিতে নিয়োজিত পৌরসভার উপসহকারি প্রকৌশলী বিপ্লব দেবনাথের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ উদ্যোগে ড্রেনের ওপর বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী মাচা তৈরি করতে হয়েছে। কিন্তু খোলা ড্রেন থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে দোকানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে উঠছে। এতে ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতি হচ্ছে।
রাশেদুল হাসান আরও জানান, খোলা ড্রেনের কারণে প্রতিদিন পথচারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকেই অসাবধানতাবশত ড্রেনে পড়ে আহত হচ্ছেন, যা এলাকায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমার অভিযোগ পৌরসভা দ্রুত তদন্ত করে ড্রেন সংস্কার ও নতুন স্ল্যাব নির্মাণের জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
