ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার নাম নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজিলত আক্তার ও সভাপতি ওমর ফারুক।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গত ১ জনুয়ারি একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত পাঁচগাছিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মরহুম চন্দু মিয়ার নামকরণ প্রসঙ্গে যে সংবাদ প্রকাশিত হয় সেখানে ভুল তথ্য তুলে ধরায় আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদটিতে প্রকাশিত হয় আমি নিজের প্রভাব খাটিয়ে চন্দু মিয়াকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেই, যা সম্পন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। কারণ ১৯৯৪ সালের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে স্কুল চালু করার উদ্যোগ নিলে মরহুম আব্দুল্লাহ জব্বারের সভাপতিত্বে কমিটির মিটিংয়ে মরহুম চন্দু মিয়াকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেজুলেশন করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন দায়িত্ব পালন অবস্থায় কমিটির ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মরহুম চন্দু মিয়ার নামের নামফলক বসান। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি পরিচিতি না পাওয়ায় আমি কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের নামে একটি তোরণ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে সব অর্থের যোগান দেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শিব্বির আহমদ। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু ও পাঁচগাছিয়া এ জেড খান উচ্চ বিদ্যালয় সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু।

তারা বলেন, সংবাদে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের বক্তব্যকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে বসে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জানাবেন বলেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ওনারা পুনরায় আমাদের সাথে যোগাযোগ না করে সংবাদ প্রকাশ করে। যাওয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক।

লিখিত বক্তব্য তারা আরও বলেন, ১৯৬৮ সালের ১৫ নভেম্বর ৭৫৭৩/৭৫২০ নং পরিচালনা কমিটি গ্রহীতা হিসেবে তৎকালীন মহকুমা এস.ডি ও'কে কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করা হয়। দলিলদাতা নজির মিঞা, আব্দুল জব্বার, আব্দুল গফুর, আব্দুল বারীসহ সাফ কবলা করে দেন। ১৯৯৪ সালের ১০ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক নুর ইসলামের সভাপতিত্বে একটি সভায় চন্দু মিয়াকে প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেজুলেশন করা হয়। একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আরেকটি সভায় চন্দু মিয়াকে মূল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেজুলেশন করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের ৫ মে বিদ্যালয়ে নাম সংশোধনী ২৮৯৮ নং দলিলে চন্দু মিয়াকে মূল উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য শামীম আনসারী প্রমুখ।