চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ফেনীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে মাছ, মুরগি, সবজিসহ প্রায় সবকিছুর দামে অস্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো হয়ে উঠেছে কষ্টসাধ্য। শাকসবজির দামে ওঠানামা থাকলেও মাছ, মুরগির দাম কিছুটা চড়া। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) শহরের ট্রাংক রোড, পৌর হকার্স মার্কেট ও মহিপাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে টমেটো ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, সাদা কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, খিরা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, সসিন্দা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কলা হালি প্রতি ৪০ টাকা, পেঁপে ৪৫ টাকা, আকড়ি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শহরের পৌর হকার্স মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আবুল বশর বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, এজন্য সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পাইকারি বাজার থেকে দাম বাড়তি হলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়বে। সবজি বিগত এক সপ্তাহ ধরে দামে ওঠানামা করছে। মাঝে বৈশাখের সময় আরও বেড়েছিল, তবে এখন আবার কমেছে। এর মধ্যে নতুন সবজির দাম তুলনামূলক বেশি।

বড় বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব বলেন, সবজির দাম এখনও ওঠানামার মধ্যে রয়েছে, তবে মাসের শুরুর দিকে যেমন ছিল তার থেকে দাম অনেক বেশি। চলমান সংকট যত দীর্ঘ হবে দাম তত বাড়বে, কারণ গাড়ি ভাড়া বাড়ছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। সোনালী বড় মুরগী ৪০০ টাকা, সোনালী ছোট মুরগী ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, লাল মুরগী ৩৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়াভাব লক্ষ্য করা গেছে। বড় বাগদা চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, গলদা ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা এবং কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে চাল, ডালসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বাজারে সামগ্রিক চাপ রয়েছে। আটাশ চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আটা ৪০ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা, মসুরের ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিকন মসুর ১৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা,আলু ২০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকক আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার এবং চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা বিগত সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নাজির রোডের ব্যবসায়ী মোর্শেদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। এতে আগামী এক-দুই সপ্তাহ দামের ঊর্ধ্বগতি আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে সাবান, হুইল পাউডার এ জাতীয় পণ্যগুলোর দাম দ্রুত বাড়ছে।

ফেনী বড় বাজারের মুদি দোকানি শহিদুল হক জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বাড়তি। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়। ফলে ব্যবসায়ীরাও চাপে আছেন।

বাজার করতে আসা শান্তি রোড এলাকার ক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নিত্যপণ্যের বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার তদারকি করা জরুরি। সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফেনী পৌর তরকারি আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর আহম্মেদ বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে। সংকট অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে, তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সমন্বয় করা জরুরি। পাইকারিতে কম থাকলেও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট থেকে যেন বাড়তি ব্যয় না হয় সেজন্য আমরা বাজার নজরদারিতে রেখেছি। সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের থেকে যেন অতিরিক্ত অর্থ না নিতে পারে সেজন্য ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়াও ভোক্তারা অভিযোগ দিলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।