মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত না মেলায় গ্রীষ্মের আগেই ফেনীতে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গ্রাহকরা বলছেন, ফেনীতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও ব্যাপক হারে লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ও রাতের বেশিরভাগের সময় বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যহত হওয়ায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ায় লোডশেডিং করে সামাল দিতে হচ্ছে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে। 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, ফেনীতে বিপিডিবির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯৩ হাজার। গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) ফেনীতে বিপিডিবির চাহিদার ৪০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। 

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন জানান, ফেনীতে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার। পল্লী বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ফেনীতে বিদ্যুৎ মিলছে না। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। 

গ্যাসের ঘাটতি ও বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চাহিদার সর্বোচ্চ সময় অর্থাৎ পিক আওয়ারে সারাদেশে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এর ফলে সারা দেশে মানুষকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হতে পারে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমলসহ দোকাপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।