দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির পরামর্শক্রমে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সিভিল সার্জন কার্যালয় ফেনীর ফেসবুক পেজে থেকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফেনী জেলার কোনো উপজেলা এখনো উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তবুও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলাজুড়ে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই কার্যক্রমে ৯ মাস থেকে ২৪ মাস বয়সী যেসব শিশু রুটিন ইপিআই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ (৯ মাসে), দ্বিতীয় ডোজ (১৫ মাসে) অথবা উভয় ডোজ হাম টিকা পায়নি, তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী নিয়মিত ইপিআই টিকার পাশাপাশি হাম টিকা প্রদান করা হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় নির্ধারিত রুটিন ও বিশেষ ইপিআই কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে।
ফেনী পৌরসভা এলাকায় টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—মেরী স্টোপ ক্লিনিক (পাঁচগাছিয়া রোড), ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (মডেল থানার বিপরীতে), প্রশান্তি ক্লিনিক (কদলগাজি রোড), ফয়েজ পাটোয়ারি বাড়ি (মধ্যম রামপুর), মেহেদী সাঈদী দাতব্য চিকিৎসালয় (পশ্চিম রংপুর) এবং ভূঁইয়া বাড়ির দরজা (উত্তর ডাক্তার পাড়া)।
এছাড়া সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
দাগনভূঞা উপজেলায় ৩ নম্বর পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব চন্দ্রপুর আমিন বাড়ি এবং ৫ নম্বর ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইয়াকুবপুর হোসেন ভূঞা বাড়িতে বিশেষ টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে সময়মতো টিকা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
