ঈদের ছুটিতে ফাঁকা সড়কে ফেনীসহ ১০ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন। শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ফেনী
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন, মোহাম্মদ মোরশেদ ও মোহাম্মদ সোহাগ। অপর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের লাশ ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। আহতদের এখন পর্যন্ত কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মহিপাল হাইওয়ে থানা থেকে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলছিল। ব্রিজের আগে স্পিডব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে পার হচ্ছিল। এসময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়।
এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও এক যাত্রী নিহত হন এবং প্রায় ১০ জন আহত হন।
এ বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে যাদের এখন পর্যন্ত নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তাদের পরিচয় শনাক্তে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করেছে।
ঈদুল ফিতরের একদিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় একটি সেতুর মেরামত কাজ চলছে। সড়ক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই কাজ ২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেনে যান চলাচল করবে।
কুমিল্লা
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রবিবার ভোররাতে উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুজন শিশু রয়েছে। তবে এখনও তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল। ভোররাত তিনটার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় বাসটিকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী মেইল ট্রেন। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খরব পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
হতাহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত করা হয়েছে তিনজন গেটম্যানকে।
হবিগঞ্জ
মাধবপুরে একটি পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আঞ্জুরা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে খাদ থেকে ভ্যানসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।
নিহতরা হলেন পিকআপ ভ্যানের চালক ইব্রাহিম, আসমা আক্তার (৪০) ও তার ছেলে সজিব (১৩)। নিহত অপরজনের নাম জানা যায়নি। মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনো গাড়ির ধাক্কায় কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যানটি খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানে থাকা চারজনকে উদ্ধার করে মাধবপুর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, গাড়িতে বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয়।”
বান্দরবান
পাহাড়ের বাঁক নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ মোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই পর্যটক।
দুর্ঘটনা ঘটে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে। গভীর রাতে বিকট শব্দে বাসটি খাদে পড়ে গেলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। মসজিদের মাইকিং শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাসের ভেতর আটকা পড়া পর্যটকদের চিৎকার শুনে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাদে নেমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, আমরা বাসের ভেতর থেকে অনেক পর্যটককে আহত অবস্থায় বের করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অধিকাংশের শরীরে ছোটখাটো আঘাত থাকলেও সুপারভাইজারসহ পাঁচজনকে খুব রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানিয়েছেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসটিতে থাকা ৪৩ জন যাত্রী গতরাতে ঢাকা থেকে বান্দরবানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পাহাড়ের ঢালু ও আঁকাবাঁকা রাস্তায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, আহত ২০ জনের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেওপাঁচজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পর্যটন মৌসুম হওয়ায় বান্দরবানমুখী রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় অনভিজ্ঞ চালক বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নওগাঁ
রাণীনগরে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ করতে ঘুরতে গিয়ে ভটভটি উল্টে পুকুরে পড়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম মো. হৃদয়। তিনি উপজেলার আমিরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
শনিবার রাত পৌঁনে ৯টায় দিকে উপজেলার ভাটকৈ-দেউলা রাস্তার ভাটকৈ খগেনের পুকুরপাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার আমিরপুর গ্রামে।
স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, ঈদের দিন উপজেলার আমিরপুর গ্রামের বিভিন্ন বয়সী যুবক ও কিশোর বন্ধুরা মিলে ভটভটি যোগে ঈদ আনন্দ করে ঘুরতে বের হয়েছিল। ভটভটিতে প্রায় ১৮ জন ছিলেন। ঘোরাফেরা শেষে রাত পৌঁনে ৯টায় দিকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটকৈ-দেউলা রাস্তার ভাটকৈ খগেনের পুকুরপাড়ে পৌঁছালে ভটভটি উল্টে পুকুরে পড়ে যায়।
এতে গুরুত্বর আহত হন ভটভটিতে থাকা অন্তত ছয়জন। তাদের মধ্যে মো. হৃদয় নামে কিশোরকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহতদের চিকিৎসার জন্য রাণীনগর ও নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাণীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলু পাল বলেন, “ভটভটি উল্টে পুকুরে পড়ে এক কিশোর মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। আর আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।”
লালমনিরহাট
জেলা শহরের ক্যান্টিন মোড়ে ঢাকাগামী একটি বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার সকালে জেলা শহরের বিজিবি ক্যান্টিন মোড়ে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী তিশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ ৮ যাত্রী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাফিক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর ওসি আব্দুল মতিন জানান, বাসটি আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অটোটি থানায় জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পাবনা
সবকিছু ঠিকঠাক আগামীকাল সোমবার তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। পুরো বিয়ের আমেজ পরিণত হলো শোকের ছায়ায়। ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।নাটোরের বনপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া এলাকার জুলফিকার ইসলাম জিল্লু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার সকাল ৮টার দিকে নাটোর-বনপাড়া থেকে পাবনা মহাসড়কের গড়মাটি কলোনি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিল্লু দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
স্বজনরা জানান, বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল। এমন সময় হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দের মুহূর্তটি মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহত জিল্লুরের আগামীকাল সোমবার বিয়ে হওয়ার কথা। সে বিয়ের দাওয়াত দিতে বড় ভাই রফিকুল ইসলামের প্রাইভেটকার নিজে চালিয়ে গড়মাটি বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে প্রাইভেটকার গতি হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
কিশোরগঞ্জ
কুলিয়ারচরে পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
রবিবার দুপুরে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের কাঁঠালতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, জাবির হোসেন ও বিজয়।
এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে জাবির, বিজয় ও তাদের এক বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ছয়সূতী থেকে কুলিয়ারচরের দিকে যাচ্ছিলেন। কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জাবির ও বিজয়ের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা ও ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাতক পিকআপটি আটক করার চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজার
টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ হারিয়াখালী সড়কে পর্যটকবাহী জিপ গাড়ির ধাক্কায় আনিসুর রহমান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রবিবার বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিসুর রহমান টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকার বকসু মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুর রহমান জানান, সড়কে লবণাক্ত পানি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে থাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পর্যটকবাহী একটি জিপ গাড়ির সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আনিসুর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বর্তমানে বিপুল পরিমাণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে। ট্রাকে করে লবণ পরিবহনের সময় নিয়ম অনুযায়ী জিওটেক্স ব্যবহার না করায় সড়কে লবণের পানি ও কাঁচামাটি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন সড়ক চালুর পর যান চলাচল বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে বলে তারা জানান।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত জিপ গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়া
কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে নয়ন নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন।
রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালী উপজেলার লুৎফরের ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নয়ন ইসলাম কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। সে পাইকপাড়া মির্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “ঈদের দ্বিতীয় দিন ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লাগে। এতে নয়ন গুরুতর আহত হয়।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
