আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করবেন না। অতীতের সরকারের কিছু পদক্ষেপ ভুল হতে পারে, আপনারা অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তবে নতুন এই বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের কারণেই হয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে, তবেই সুন্দর দেশ গঠন সম্ভব। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ফেনীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদরা গণঅভ্যুত্থানে স্বশরীরে অংশ না নিলেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। তবে তাদের কিছু পদক্ষেপ গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে যাচ্ছে। জাতি এসব মনে রাখবে। ছেলে হারানো মায়েরা মনে রাখবে। রাজনৈতিকভাবে এর দায় আপনাদের নিতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো জুলুম করতে পারবে না। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো জুলুম করে, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গুম হননি, সাংবিধানিকভাবে দেশেও ফিরে আসেননি। সংবিধানবহির্ভূত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনারা দেশে এসেছেন। জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন মানুষের রক্তের স্রোতের বদৌলতে। মানুষের রক্তকে ভুলে যাবেন না।

তিনি বলেন, আপনাদের অবদান নেই তা নয়, তবে আপনারা দেশে ছিলেন না। শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও মুক্তিযুদ্ধের নেতা হিসেবে তাকে মানা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধা জীবনযাপন সবাই দেখছে। আগামী কয়েকদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে ফেনীর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেনা ক্যাম্প ও লালপোল ফ্লাইওভারের বিষয়গুলো তুলে ধরব। আমরা একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও সুন্দর ফেনী গঠন করতে চাই।

মঞ্জু বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাতের সময় দিয়েছে। আমি ফেনীর বিষয়গুলো তুলে ধরব। পাশাপাশি ফেনীর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বন্ধসহ ফেনীর সার্বিক উন্নয়ন ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরব, যেন অতিদ্রুত সামাধান করা যায়।

বিএনপির তৃণমূল নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করার আহবান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের যে ইচ্ছা, সেটি তৃণমূল পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। তারেক রহমান হেঁটে অফিস করেন, অথচ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা ১০-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে মানুষের ওপর জুলুম করছে। আমি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনুরোধ করেছি, যেন তৃণমূলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কাজ করা হয়।

নিজের নির্বাচনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে ফরহাদনগরে আমার এক কর্মীর মাথা ফাটানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের ওপর হামলা করা হয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, লেমুয়ায় আমাকে হেনস্তা করে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। আমাদের লোকজনকে হেনস্তা করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন সন্ত্রাসের বিষয়ে অভিযোগ দিলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে নির্বাচনের আগে কথা বলে আমি অনুরোধ করেছিলাম, যেন নির্বাচনে কোনো গণ্ডগোল না হয়। তিনি সেই অনুরোধ রাখবেন বলেছিলেন। পরে তিনি আমার অফিসে ভাঙচুর হওয়া গাড়ি দেখতে এসেছিলেন। আমি দোষীদের বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে ডামি এজেন্ট দিয়ে, নেতাকর্মীদের হেনস্তা করে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অতীত রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে চাই না বলেই আমি ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা চাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, অপরাধীরা শাস্তি পাক। মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন যেন না হয়।

এ সরকার শুরুতেই ভুল করেছে উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। অথচ এটিকে আদালতে নেওয়ার কথা ছিল না। এর পেছনে বিএনপি নেতাদের হাত রয়েছে, এটি এখন ওপেন সিক্রেট।

মঞ্জু বলেন, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংস্কার কমিশনের কথা নাকি সংবিধানে নেই। অথচ এ সালাহউদ্দিন ভাই তো দুনিয়াতেই ছিলেন না, বেঁচে আছেন কি না, কেউ জানত না। আপনাকে গুম করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সীমান্ত পার করে অন্য দেশের সীমান্তে নেওয়া হয়েছিল, এটি কোন সংবিধানের অনুচ্ছেদের বলে করা হয়েছে, সেটি জানতে চাই। কোন অনুচ্ছেদ ও কোন আইনের বলে খালেদা জিয়াকে জেল দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানকে দেশান্তরিত করা হয়েছে তাও জানতে চাই।

এসময় এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্ল্যাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হকসহ জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ফেনীতে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।