পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে ফেনীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। ফেনীর একটি এলাকায় বেড়িবাঁধ, অন্য এলাকায় নদীভাঙন সমস্যা রয়েছে। এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুছাপুর ক্লোজার পরিদর্শনে আসছেন, সেদিন এসব বিষয়ে কথা হবে। নদীভাঙন রোধে রেগুলেটর ঠিক করতে হবে। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) সকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সোনাগাজীতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বালু উত্তোলন সব জায়গা থেকে হয় না। আইন ও নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সোনাগাজীর বালু নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। তবে তারা বলছেন, সোনাগাজীর কোথাও থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে না। অন্য কোথাও থেকে বালু উত্তোলন করে সোনাগাজীর মাধ্যমে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এটিও সহসাই বন্ধ করা হবে। যেগুলো ইতোমধ্যে স্তূপ করে রাখা হয়েছে সেগুলো সরানোর বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বাইরে থেকে সোনাগাজীর মাধ্যমে বালু নেওয়া যাবে না, কারণ এতে সোনাগাজীতে বায়ুদূষণ হচ্ছে এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফেনী জেলা বাংলাদেশের বাইরে নয়। ফেনী অন্যান্য জেলা থেকে ভালো রয়েছে। তবে আরও উন্নত করা দরকার। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি আজকে শুনেছি, আগামী সভা থেকে উপজেলা পর্যায়ে যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো লাঘবে চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী ৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো হবে। প্রয়োজন অনুসারে কিছু গাছ কাটতে হয়। সেটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি বছর গাছ লাগানো হবে। নতুন গাছ লাগানো হলে পরিবেশের সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে।
এর আগে সকালে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে যেভাবেই হোক পরিবেশ উন্নত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেভাবেই হোক জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশকে আরও উন্নত করতে হবে। শুধু বাতাসের নয়, শব্দদূষণ ও নদীদূষণ কমাতেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অ্যাকশন প্ল্যানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী মে মাস থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হবে। বৃক্ষরোপণের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো জড়িত।
তিনি বলেন, অতীতে লুটপাট যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর লুটপাট হবে না। পুরোনো সময়ে নেওয়া যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেগুলোর জন্য কাউকে না কাউকে দায়বদ্ধ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় দেশের পরিবেশ উন্নত হোক। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা শহরের দূষণের মাত্রা পৃথিবীর অন্যতম খারাপ অবস্থায় রয়েছে। যেভাবেই হোক জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশকে আরও উন্নত করতে হবে। দূষণ কমাতে হবে। শুধু বাতাসের নয়, শব্দদূষণ ও নদীদূষণও কমাতে হবে।
তিনি বলেন, কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের কাজ পরিবেশ উন্নত করা, যেন সব ধরনের দূষণ কমে। কারণ পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের জীবনমানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি এ কারণে দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় দুই বছর কমে যাচ্ছে। বিষয়টি মোকাবেলায় সবার সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, পরিবেশ উন্নয়নের জন্য যেসব কাজ করা দরকার, আমরা তা করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হচ্ছি, তা থেকে উত্তরণের বিষয়টিকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তবে দেশে কাঠামোগত কিছু ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কাজ নয়, কিন্তু এর কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তাই এসব বিষয়কে একটি কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। শুধু ঢাকা শহর নয়, ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এসব সমস্যার সমাধান হয়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।
এর আগে সকালে মন্ত্রীকে সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ফেনী সফরে এসেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। শনিবার (৭ মার্চ) থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে অবস্থান করবেন।
