রাজধানীর তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ লাখ জাল টাকা ও টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার কারবারি চক্রের দুই সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই অপূর্ব দত্ত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার নাইমুল ইসলাম ইশান (১৯) এবং ফেনী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কৌহিনুর আলমের ছেলে কেফায়েত উল্লাহ (১৯)। তারা ফেনী থেকে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় গিয়ে একটি কলেজ থেকে গত বছর উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। এই কারবারের পাশাপাশি দুজনই বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা।
অভিযানে র্যাবের হাতে আটকের পর গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, শখের বসে টিভিতে জাল টাকার প্রতিবেদন, ফেসবুক-ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি থেকে দেখে তারা দুইজন মিলে জাল টাকা তৈরি করতে শুরু করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তুরাগ থানাধীন ডলিপাড়ার একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় অভিযান চালায় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩) এর একটি টিম। অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৫ হাজার ৫টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ২টি লেজার প্রিন্টিং ডায়েস, ১টি প্রিন্টার এবং ৩টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
র্যাব-৩-এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
