ফেনী বড় বাজারে ফের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের ধানপট্টির মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মনোহরী দোকান আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ফেনীর এ সর্ববৃহৎ বাজারে অগ্নি ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিসও। তারা বলছে, আগুন নির্বাপনে পানি অত্যন্ত জরুরী বিষয়। কিন্তু বাজারের কোথাও পানির উৎস নেই। এছাড়া রাস্তা সরু ও বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জাল বড় বাজারে অগ্নি ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর রাতে বাজারের ধানপট্টির মুড়ি বাজারে দোতলা ভবনে মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পানির জন্য তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তাদের রিজার্ভ পানি শেষ হয়ে গেলে বাজারের পাশে রাজবাড়ির পুকুর থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেসময় রাজবাড়ির গেটটি ছিল তালাবন্ধ। পরে তালা ভেঙে পানি সংগ্রহ করতে হয়, এতে নষ্ট হয় সময়। পানি সংগ্রহ করতে দেরি হওয়ায় আগুন নিভাতে বেশ সময় লাগে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক নুরুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যান তিনি। ভোর রাতে পাশের শরীফ মিষ্টি মেলা দোকান থেকে ফোন করে তাকে আগুন লাগার খবর দেওয়া হয়। দ্রুত এসে দেখি আগুন দাউ দাউ করে জ¦লছে। আগুনে দেড় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী নুরুল আলম। তিনি জানান, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দোকানে প্রায় ১২ টাকার মোবাইল রিচার্জ কার্ড ও নগদ ৫ লাখ টাকা রক্ষিত ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বড় বাজারে অগ্নি ঝুঁকির মাত্রার কথা উল্লেখ করে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর মজিদ দৈনিক ফেনীকে জানান, বাজারে ৭ থেকে ৮ হাজার দোকান রয়েছে। বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোন রাস্তা নেই। এমনকি নেই পানির কোন উৎস। এসব বিষয়ে সচেতন না হলে বড় বাজারে মারাত্মক অগ্নি দুঘর্টনা ঘটতে পারে। গতকাল বাজারের মুড়ি বাজারে আলম এন্টারপ্রাইজের ভবনের দোতলায় ছিল গোডাউন। নিচতলায় ছিল দোকান। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ আনার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে ব্যবসায়ীরা। পাশের মিষ্টির মেলা দোকানটির উপরের তলায় রাসয়নিক রক্ষিত ছিল। সেখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে যেত। মুহুর্তের মধ্যে অনেক ব্যবসায়ীর ক্ষতি হয়ে যেত।

তিনি আরও জানান, বড় বাজারে অগ্নি নির্বাপণে পানির উৎসের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ৫টি রিজার্ভ টাংকি করার জন্য একাধিকবার জেলা প্রশাসক, ফেনী পৌর কর্তৃপক্ষ ও ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকে লিখিত জানানো হয়েছে। বড় বাজারে পানির উৎস ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নি দুর্ঘটনা রোধ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, ইলেকট্রিকের একজন দক্ষ প্রকৌশলীকে দিয়ে ৬ মাস পর পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং তা অবশ্য রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। গতকাল অগ্নিকান্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ বিএনপি নেতারা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা মহামারী ও ২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। এবার অগ্নিকান্ড ব্যবসায়ী নুরুল আলমকে নিঃস্ব করে ফেলেছে।

বড় বাজারে অগ্নি ঝুঁকি প্রসঙ্গে ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক প্রধান সমন্বয়ক মুশফিকুর রহমান পিপুল জানান, অগ্নি নিরাপত্তায় বড় বাজারে চাউল পট্টিতে পানি রিজার্ভ টাংকি স্থাপনের জন্য ফেনী পৌরসভার সাবেক পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনসহ পরিদর্শন করা হয়েছিল। এ জন্য অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কেন তা নির্মাণ করা হয়নি তা পৌরসভা বলতে পারবে। এটি স্থাপন করা হলেও বড় বাজারে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে।

একই দিন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু।