রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় ভাষা উদযাপন কমিটি আহুত কর্মসূচি ফেনীতেও পালিত হয়েছিল। এদিন ফেনী কলেজ ছাত্ররা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ফেনীতে মিছিল ও সভা করে। সেদিন ফেনী কলেজে গঠিত হয় ভাষা উদযাপন কমিটি। এ কমিটির আহবায়ক ছিলেন ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের (ছাত্র সংসদ) সাধারণ সম্পাদক কোব্বাদ আহমদ (ভাষা আন্দোলন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া: আহমদ রফিক)।
ভাষা আন্দোলনে ফেনী কলেজ ছাত্রদের ভূমিকা ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। ফেনী তখন তৎকালীন নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন নোয়াখালী শহর ও অন্যান্য মহকুমায় তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল ফেনী। ১৯৪৮ সালেই ভাষা আন্দোলনে ফেনী কলেজ ছাত্রদের ভূমিকা ছিল আলোচিত। তাদের সঙ্গী ছিলেন স্কুল শিক্ষার্থীরা (ভাষা আন্দোলনে নোয়াখালী শীর্ষক প্রবন্ধ, ডেইলি স্টার অনলাইন, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)।
একাধিক ভাষাসৈনিকের আত্মজীবনী, প্রবন্ধ এবং প্রাসঙ্গিক গ্রন্থে দেখা গেছে, রাষ্টভাষা বাংলার পক্ষে জনমত গঠনে ফেনী কলেজের ছাত্রনেতারা ঢাকার সাথে সমানতালে এগিয়েছে। ফেনী কলেজ ছাত্রনেতাদের সাথে তৎকালীন তমুদ্দিন মজলিস নেতাদের সখ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রনেতারা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। যেসব স্কুলছাত্র আন্দোলনের মন্ত্রে আবিষ্ট হত, তারা বিভিন্ন মসজিদ, বিদ্যালয়ে গিয়ে জনমত তৈরিতে কাজ করত। কারণ, ভাষা আন্দোলন বিরোধীরা সাধারণ মানুুষদের বোঝাত বাংলা হচ্ছে হিন্দুদের ভাষা (জীবনের ধারাপাত : কামাল হাসান চৌধুরী)।
ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে পূর্ববাংলার ছাত্ররাজনীতি ফেনী কলেজের ছাত্রনেতাদের মাঝে গতি এনেছিল। একুশে পদকপ্রাপ্ত একাধিক ভাষাসৈনিক ফেনী কলেজ হতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে নিজের সম্পৃক্ত করেছিলেন। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক দিক হতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশ। ফেনী কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদকপ্রাপ্তদের অন্যতম এবিএম মূসা, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, প্রখ্যাত কবি বেলাল চৌধুরী।
তৎকালীন ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশ দেশের অন্যান্য কলেজের ছাত্র সংসদের মতো শিক্ষকদের মনোনীত ছাত্র দ্বারা পরিচালিত হত না। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন হত। সেসময় সহসভাপতি পদ ছিল না, সভাপতি হতেন অধ্যক্ষ (ফেনীর ইতিহাস: জমির আহমদ)।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহকুমা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফেনীতে হরতাল কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ। পুনর্গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তার নেতৃত্বে কলেজ শিক্ষার্থী, আলিয়া মাদ্রাসা, ফেনী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাজপথে হরতাল কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন হয় পরশুরামেও (আজাদ, ১ মার্চ)। ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি ফেনী-সোনাগাজী সড়ক অবরোধ করেছিল ধলিয়া স্কুলের শিক্ষার্থীরা (কামাল হাসান চৌধুরী)। এদিন পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভাষার জন্য চূড়ান্ত আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি আহুত আন্দোলনে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেওয়া হয়। সুনির্দিষ্ট কিছু দাবির মধ্যে স্কুল কলেজ বাজারে সাধারণ ধর্মঘটপালন, শোভাযাত্রা, বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষাকরণের দাবিতে সংঘবদ্ধ ও জাগ্রত আন্দোলন, আরবি হরফে বাংলা লেখার উদ্ভট সরকারি পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করা, বিনাবিচারে আটক রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি ছিল অন্যতম (ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গ-২, বদরুদ্দীন উমর)। এসব দাবিতে ফেনীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে ফেনী কলেজ শিক্ষার্থীরা ভূমিকা রাখে। যেকারণে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৫৫ সালে দাবি আদায় পর্যন্ত থানাপর্যায়েও ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
অবস্থানগত দিক থেকে ফেনী কলেজ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে ওঠে। কলেজের পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, পূর্ব সীমানায় ফেনী রেল স্টেশন। সেসময় এত উন্নত যোগাযোগ সহজ বিষয় ছিল না। এতে করে বিভিন্ন অঞ্চল হতে প্রাচীন এ বিদ্যাপিঠে পড়তে আসতেন ছাত্ররা। যেকারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি আদানপ্রদানের মধ্যদিয়ে বৈচিত্র্য গড়ে ওঠে। এ বৈচিত্র্যতার অন্যতম দিক ছিল বিপ্লবী চেতনা। ফেনী কলেজে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্থানীয় সংস্করণে গড়ে ওঠা স্বদেশী আন্দোলনের আদলে খদ্দর আন্দোলন। ফেনী কীর্তিমান একাধিক রাজনৈতিক নেতা এ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তাঁদের অন্যতম আবদুল জব্বার, এম হুদা প্রমুখ। এদের সকলের নামের পেছনে জুড়েছিল খদ্দর খেতাব। তবে, এককালের বর্ষিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল জব্বার খদ্দর মুক্তিযুদ্ধে চরম বিতর্কিত হয়ে যান।
ফেনী কলেজের নিকটবর্তী সহদেবপুর এলাকায় ছিল বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্যসেনের অনুসারী ও সমচেতনার আধিক্য। ১৯৪০ সালের দিকে মাস্টারপাড়ায় গড়ে ওঠে রবীন্দ্র পাঠাগার। এর পেছনে ছিল বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দলের প্রভাব। বিভিন্নসময় এখানে নিয়মিত যাতায়াত ও কার্যনির্বাহে ভূমিকা রেখেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক এবিএম মূসা, বিচারপতি কাজী এবাদুল হকসহ একাধিক ফেনী কলেজ ছাত্রনেতা। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এর দায়িত্বে ছিলেন ফেনী কলেজ শিক্ষার্থী ভাষাসৈনিক শান্তিশূর। তিনি ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে কারানির্যাতিত ছিলেন (কাজী এবাদুল হক)। সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমসাময়িক রাজনৈতিক সচেতনতা, অগ্রসরমান ছাত্ররাজনীতিচর্চা ফেনী কলেজের শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র রাজনীতি প্রাসঙ্গিক একটি সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যতম সভ্য এবং সভাপতিত্ব করেন সেসময় ফেনী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নাজমুল করিম (আওয়ামী লীগ : মহিউদ্দিন আহমদ)। সঙ্গতঃ কারণেই ফেনী কলেজের ছাত্রনেতারা তাঁর মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। একইসময় ফেনীর একাধিক কৃতি সন্তান তখন প্রাদেশিক রাজনীতিতে প্রথমসারির নেতা ছিলেন। এসব নেতাদের মধ্যে আজিজ আহমদ, মাহমুদ নুরুল হুদা, খাজা আহমদ অন্যতম। এদের সকলেই ভাষা আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকায় মতামত প্রদানের পর্যায়ে ছিলেন। প্রতীয়মান হয়, তাদের মাধ্যমেও ফেনী কলেজের ছাত্রনেতারা এই আন্দোলনে শুরু থেকেই ঢাকার সাথে যুগপৎ হেটেছেন।
১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা উদযাপন কমিটি গঠনের পর রাষ্ট্রভাষার দাবি আদায় পর্যন্ত প্রতিবছর ১১ মার্চ ভাষা উৎযাপন দিবস পালিত হয়েছে এবং কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে (ফেনীর ইতিহাস : ১৭৬)। ১৯৪৮ ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রনেতাদের মধ্যে শহরের তাকিয়া বাড়ির ডা. তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা আবদুল ওহাব, আবুল কাসেম, সিদ্দিক উল্লাহ, শান্তিশূর, এবিএম মূসা, কুমুদ দত্ত উল্লেখযোগ্য নাম (ভাষা আন্দোলন : টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া)।
১৯৫০ সালের প্রথমভাগ পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক এগোতে থাকে। এসময় কোব্বাদ আহমদের ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে শাসছুল হুদা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান (রাজনীতির তিন কাল)।
১৯৫০ সালে দ্বিতীয়ার্ধে ভাষা আন্দোলন ঘিরে ছাত্রনেতাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। অক্টোবর মাসে গ্রেপ্তার হন সাপ্তাহিক সংগ্রাম সম্পাদক খাজা আহমদ (পূর্ববঙ্গে ভাষা আন্দোলন, বদরুদ্দীন উমর)। এসময় ফেনীতে আন্দোলনে তীব্রতা বাড়তে থাকে। ছাত্রনেতাদের সামনের কাতারে চলে আসে জিয়া উদ্দিন আহমেদ, লুৎফর রহমান ভানু, জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, ফরমান উল্লাহ খান প্রমুখ ছাত্রনেতা (ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস, ফেনী, পৃ-১৪৮)। ১৯৫১ সালে ছাত্র মজলিশের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জিয়া উদ্দিন আহমেদ (আত্মজীবনী, ভাষাসৈনিক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক)।
ফেনী কলেজ ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় মেলে। ভাষার পক্ষে ছাত্রেনেতাদের অধিকাংশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। এ প্রসঙ্গে একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক আত্মজীবনীতে বলেন, ‘ফেনী কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেই ডিসেম্বর মাসে (১৯৫১) ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের (সংসদ) নির্বাচনের তোড়জোড় আরম্ভ হয়। বহু বছর যাবৎ ফেনী কলেজে ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি (ইউপিপি) ও ইউনাইটেড স্টুডেন্টস সোসাইটি (ইউএসএস) নামক দুটি দলের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছিল। সাধারণত প্রগতিশীল ছাত্র নেতারা ইউপিপিতে ছিল এবং যারা তাদের বিরুদ্ধে ছিল তারা ইউএসএসএতে ছিল। তাছাড়া ফেনীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ছাত্রদের মধ্যে ইউপিপির প্রাধান্য বেশি ছিল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ছাত্রদের মধ্যে ইউএসএস এর সমর্থক বেশি ছিল। আমার বাড়ি ফেনীর দক্ষিণে হলেও আমি ইউপিপিতে যোগ দিয়ে ওই দল থেকে সাহিত্য সম্পাদকের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। আমাদের দল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৃতীয় বর্ষের অর্থাৎ বিত্র প্রথম বর্ষের ছাত্র জিয়াউদ্দীন আহম্মদ।’ উল্লেখ্য, কাজী এবাদুল হক এ নির্বাচনে সাংস্কিৃতিক সম্পাদকপদে জয়ী হন।
৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর সেদিন রাতে ফেনীতে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। তাৎক্ষণিক শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরদিন ছাত্রজনতার আন্দোলন তীব্রতর হয়। রাজনৈতিক নেতারা এবং ফেনী কলেজের ছাত্ররা নোয়াখালীর চৌমুহনিতে অন্যান্যদের সাথে মিলিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এদিন ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশ জিএস জিয়াউদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করে তা পুনর্গঠিত হয় (বিচারপতি কাজী এবাদুল হক)। এই কমিটিতে তৎকালীন যুবলীগে আওয়ামী লীগ, জাতীয় কংগ্রেস, তমুদ্দিন মজলিস, বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল, ফেনী সংস্কৃতি সংসদসহ ভাষা আন্দোলনের পক্ষের দলগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় (জমির আহমদ)।
২২ ফেব্রুয়ারি চৌমুহনিতে বিক্ষোভ সমাবেশ চললেও ফেনীতে রেলপথ অবরোধ করে ছাত্রজনতা। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তৎকালীন পুলিশ ও প্রশাসন কঠোরনীতি অবলম্বন করে। শুরু হয় ছাত্রদের লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন। জননিরাপত্তা আইনে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বেশ কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে। এ মামলায় কারাবরণ করেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রনেতা লুৎফুর রহমান ভানু, জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, এমএ হানিফ, ফরমান উল্লাহ খানসহ একাধিক ছাত্রনেতা। একইরকম মামলায় গ্রেপ্তার হন খাজা আহমদ, কুমুদ দত্ত, এমএ কাশেম, একে শামসুল হুদা প্রমুখ (ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস)।
বিভিন্ন তথ্যের আলোকে ১৯৫১-৫৩তে ছাত্র আন্দোলনে ব্যাপক উত্তাপ লক্ষ করা যায়। গুণগত নেতৃত্ব এবং সংঘবদ্ধ আন্দোলন বিশেষ রূপ পায়। ফেনী কলেজের একাধিক ব্যাচ সোচ্চার হয়ে ওঠে। জিয়াউদ্দিন আহমেদ, লুৎফুর রহমান ভানু, জুলফিকার হায়দার চৌধুরী সমসাময়িক ছাত্র ছিলেন। এসময় ফেনী কলেজ ভাষা আন্দোলনে দীপ্তি ছড়ান বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, আমির হোসেন, মাইজুদ্দিন আহমেদ, গিয়াস হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।
১৯৫৩ সালে ফেনী কলেজ ছাত্র মজলিশের জিএস হন আমির হোসেন। এ নির্বাচনেও ইউপিপি পূর্ণপ্যানেলে জয় পায় (কাজী এবাদুল হক)। এবছর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে পালন করে ফেনীর ছাত্রজনতা।
এবছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনপূর্ববর্তী সমাবেশ ঘিরে ফেনী উত্তপ্ত হতে থাকে। রাজনন্দিনী দিঘির উত্তরপাড়ে ভাষার দাবিতে পাকিস্তানবিরোধী একটি মিছিলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। সেদিন পুলিশি নির্যাতনে আহত হন একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক কবি বেলাল চৌধুরী (কাজী এবাদুল হক)।