যা বলছেন প্রার্থীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে বিএনপির ভোট ও বর্তমান প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে দলীয় প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু দৈনিক ফেনীকে বলেন, ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার যে ভোট ছিল সেটি কোন অংশে কমবে না। আমাদের ভোট বাড়বে, কারণ ২০১৮ সাল থেকে এই এলাকায় আমি কাজ করছি। যেকোনো বিপদে-আপদে, করোনাকালীন ও বন্যাকালীন সময়ে মানুষের পাশে ছিলাম। এজন্য আমার বিশ্বাস মানুষ যেভাবে খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করেছিল, আমাকেও একইভাবে গ্রহণ করবে।

তরুণ ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তরুণদের প্রতিনিধি। তরুণরা আমার পক্ষেই থাকবে। তারা সবাই দেশপ্রেমিক, সেই হিসেবে দেশপ্রেমিকের পক্ষেই থাকবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে তরুণরা থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম কালাম উদ্দিন বলেন, ফেনী-১ কারো ব্যক্তিগত আসন হিসেবে দেখছি না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যতদিন এ আসনের প্রতিনিধি ছিলেন, ততদিন তিনি সম্মানের সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ফেনী-১ আসনেও দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে। আমি ফেনী-১ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত গিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেছি। এছাড়া ফেনী-১ আসনে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে। জামায়াত নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।

তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেনী-১ আসনে তরুণদের বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তরুণদের বড় অংশ পরিবর্তন চায়। এজন্য আমার বিশ্বাস তরুণদের অধিকাংশ ভোট জামায়াতের পক্ষেই আসবে।

ফেনীর রাজনীতিতে উত্থান ও অবস্থান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, আমি ফেনীতেই বড় হয়েছি। এখানকার ক্রীড়াঙ্গনে আমার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি এককভাবে ও সংগঠনের মাধ্যমে গত ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম।

পূর্বে জয়লাভ করেন যারা
ফেনী-১ আসনে বিগত সময়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণের দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবিএম মূসা ৩২ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদের আবু বক্কর সিদ্দিক পেয়েছিলেন ৮ হাজার ৭৪০ ভোট। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম ২১ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের (মালেক) প্রার্থী আমিনুল করিম মজুমদার খোকা মিয়া পান ১২ হাজার ৩২৭ ভোট। এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের জাকারিয়া ভূঞা পান ২ হাজার ৬৬২ ভোট। ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩৬ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সেইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকারিয়া ভূঞা ২৩ হাজার ২৫০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। ওই বছর শিরীন আখতার (জাসদ-ইনু) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পেয়েছেন ১ হাজার ২৪৫ ভোট। ১৯৯৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৬৫ হাজার ৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজিউল্লাহ ভূঞা ২৪ হাজার ৪৩৮ ভোট পান। ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৭৬৩ ভোট। ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ফয়েজ আহাম্মদ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৫৫১ ভোট।

তবে ২০১৩ ও ২০১৮ নির্বাচনকে এ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়নি। ২০২৪ সালে এ আসনে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়ে দীর্ঘ ৫০ বছর পর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।