ফেনীর উত্তরে সীমান্তবর্তী ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন। এর মধ্যে ফুলগাজী ও পরশুরামের মোট ভোটার সংখ্যার কাছাকাছি ভোটার রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলায়। এই আসন থেকেই নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের অন্যতম ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত ফেনী-১।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও খালেদা জিয়া এ আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার পরপরই মৃত্যু হওয়ায় এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন। এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী, গণমুক্তি জোটের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞাও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

ফেনী-১ আসনে এবারের ভোটের মাঠের সমীকরণে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। একদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ভোটের মাঠে নেই আওয়ামী লীগ, এতে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক কোনদিকে যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, অতীতে বিএনপি-জামায়াত একাধিকবার জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও এবার দুই দল বিপরীত মেরুতে থাকায় ভোটের হিসাব আর আগের মতো নেই। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভোটের সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধারণ করা বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার।

জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৬ জন, ফুলগাজীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৫২১ জন ও পরশুরামে ৯৫ হাজার ৯৫ জন ভোটার রয়েছে। ভোটের মাঠে এই আসনে এবার রয়েছে ৪৪ শতাংশ তরুণ ভোটার, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। এ ভোটাররা এবারই দেখতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং অনুকূল পরিবেশের কার্যত কোনো নির্বাচন।

জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে নির্বাচন করেছে। ১৯৯১ সালে ফেনী-১ আসনে জামায়াতের ভোট ছিল ৭৮২টি, যা মোট ভোটের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ। ওই নির্বাচনে বিএনপির ভোট ছিল ৩৬ হাজার ৩৭৫টি, যা মোট ভোটের ৩৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে ফেনী-১ আসনে জামায়াতের ভোট ছিল ৮ হাজার ৪৭৫টি, যা ভোট ভোটারের ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। ওই নির্বাচনে বিএনপির ভোট ছিল ৬৫ হাজার ৬৮টি, যা মোট ভোটারের ৫৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ফেনী-১ আসনে জামায়াতের গড় ভোট ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও বিএনপির গড় ভোট ছিল ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

তবে ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছিল। ২০০১ সালে জোটের প্রার্থী অর্থাৎ বিএনপি পেয়েছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯টি, যা মোট ভোটের ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া ২০০৮ সালেও এ আসনে বিএনপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল, যা মোট ভোটের ৫১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ৪২ হাজার ২৩৬ জন। এর মধ্যে বিএনপি ভোট পেয়েছিল ১৭ হাজার ৮৭০ ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ৩৩৩ ভোট। ১৯৯৬ সালে এ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ৫৩ হাজার ৩৭৩ জন। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ৩০ হাজার ৭৫০ ভোট ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ৫ হাজার ২৬৭ ভোট।

ফুলগাজী উপজেলায় ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ২২ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৪৮ ভোট ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ২০৬ ভোট। ১৯৯৬ সালে এ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ২৫ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ১২ হাজার ৩৩৮ ভোট ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ১ হাজার ৩৮৩ ভোট।

একইভাবে পরশুরাম উপজেলায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ৩১ হাজার ১৬১ জন। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ১২ হাজার ১২৫ ভোট ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ২৪৪ ভোট। ১৯৯৬ সালে এই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ৩৯ হাজার ৮৫০ জন। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৯ ভোট ও জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ১ হাজার ৮২৫ ভোট।

এদিকে অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। অতীতে নির্বাচনে যে হিসাবে বিএনপি-জামায়াত ভোট পেয়েছিল, সেই সমীকরণ আর নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন করে যুক্ত হওয়া তরুণদের ভোট পূর্বের সমীকরণ বিবেচনা করে ভোটের হার নির্ধারণ করা সমীচীন নয় বলেও মনে করছেন তারা।

ফেনী-১ আসনের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিজিডি) নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, ফেনীর তরুণ ভোটারদের জন্য আদর্শভাবে একজন তরুণ প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল। তবে ফেনী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই প্রার্থীই সিনিয়র। বয়স দিয়ে তারুণ্যকে আটকে রাখা যাবে না। যে প্রার্থী তরুণদের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কাজ করবে, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেবেন সেই প্রার্থীই এগিয়ে থাকবে। অথচ এখন পর্যন্ত ফেনী-১ আসনের কোনো প্রার্থী তরুণদের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা বা ভাবনার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেনি। তিনি বলেন, এ আসনে প্রচলিত ভোটের হার বা অতীতের নির্বাচনী সমীকরণ এবার কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই তরুণ, যারা অতীতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে নির্দিষ্ট কোনো শতাংশে মাপা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন দৈনিক ফেনীকে বলেন, এ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণভাবে কাজ করবে, কারণ এ প্রজন্ম অতীতে জাতীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেনি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণরা বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখতে চায়। ফলে তরুণদের প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার যত বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ততটাই এগিয়ে থাকবে। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার প্রার্থীর ব্যক্তিগত গুণাগুণ, যোগ্যতা ও ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ভোট দিবে। দলীয় প্রতীক বা মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কমে আসতে পারে।

তরুণ ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু জেন-জি প্রজন্ম অতীতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি, তাই এবারের নির্বাচনে তারা ভোটের মাঠে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। তাদের সামনে কার্যত দুইটি রাজনৈতিক পথ খোলা থাকবে, তারা যেদিকে ঝুঁকবে শেষ পর্যন্ত সেই দিকের প্রার্থীই সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

বিএনপি-জামায়াতের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে পূর্ববর্তী সময়ের হিসাব-নিকাশ এখন আর মিলবে না। এবারের নির্বাচনের মৌলিক ভোটার অর্থাৎ, তরুণরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অতীতে দেখেনি। এর মধ্যে তাদের রয়েছে জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট। ভোট না দেখা প্রজন্মের ভোটেই নির্ধারণ করবে আগামীর এমপি।

অতীতের নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনী-১ আসনে বিএনপির সর্বাধিক ভোট রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলায়। অন্যদিকে ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার রয়েছে। পরশুরামেও রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের উল্লেখযোগ্য ভোট।

এ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু। অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিল দলের সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ভোটাররা বলছেন, এই আসনে অতীত থেকেই বিএনপির ভোট দুই ধরনের ছিল। একটি অংশ ছিল খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ভোট, আরেকটি অংশ ধানের শীষের ভোট। এ আসনে জামায়াতের ভোট কম থাকলেও বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের। এতে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ভোট পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট কোনদিকে যাবে, সেই চ্যালেঞ্জও নিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিনেরও নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ আসনে জামায়াতের ভোট কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে একাধিক ভোটারের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই জামায়াতের প্রার্থীকে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ফেনী-১ আসন বাংলাদেশের অন্যতম ভিআইপি আসনের মধ্যে একটি। খালেদা জিয়ার আসনের চাপসহ বিএনপির ভোট ব্যাংকের হিসাব-নিকাশেও জামায়াতকে বাড়তি ভাবনায় পড়তে হচ্ছে এমনটিই মনে করছেন এ আসনের ভোটাররা।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিজিডি) নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, ফেনী-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ভোট ব্যাংক তুলনামূলকভাবে শক্ত, কারণ এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এজন্য বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে বর্তমানে দলটির প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকায় এই জায়গায় বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী এলাকায় খুব বেশি সময় সক্রিয় না থাকলেও তার বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযোগ না থাকায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া ও সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যিনি দলের ভেতরে যত বেশি ঐক্য ও সমর্থন আদায় করতে পারবেন, বাস্তবে সেই প্রার্থীর দিকেই আওয়ামী লীগের ভোট বেশি যাবে।

ফেনী-১ আসন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, এই আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক ছিল, যার সঙ্গে বর্তমান কোনো প্রার্থীর সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। সেই সময় অনেক ভোটার দলীয় প্রতীকের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। বর্তমান প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে সেই ব্যক্তিগত ভোট নিজের পক্ষে আনা সহজ হবে না। এছাড়া ফেনী-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের জন্য বরাবরই চ্যালেঞ্জিং। অতীত নির্বাচনগুলোতে দলটি এখানে খুব বেশি ভোট পায়নি। তবে এবার তারা নতুন জোটে অংশ নিয়েছে, ভোটাররা সেই জোটকে কতটুকু গ্রহণ করে সেটিই দেখার বিষয়।

ফেনী-১ আসনের ভোটার আবুল কালাম বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন করলে পরিসংখ্যান অন্যরকম হতো। তার অনুপস্থিতিতে ভোটারদের বড় একটি অংশের ভোট ধানের শীষের বিপক্ষেও যেতে পারে। তবে এ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেদিক বিবেচনায় তারা এগিয়ে থাকবে। অন্যদিকে জামায়াতেরও আগে থেকে ভোট বেড়েছে, সেখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনেরই প্রত্যাশা করছি।

কোন বয়সী ভোটার বেশি
ছাগলনাইয়া উপজেলার বয়সভিত্তিক ভোটারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৬ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৪১৮ জন, ২২ থেকে ২৫ বছরের ১৫ হাজার ৪৫৫ জন, ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ১৬ হাজার ৩৮৯ জন, ৩০ থেকে ৩৩ বছরের ১৫ হাজার ৯৯৮ জন, ৩৪ থেকে ৩৭ বছরের ১৯ হাজার ৭১ জন, ৩৮ থেকে ৪১ বছর বয়সী ১৮ হাজার ৩৭১ জন, ৪২ থেকে ৪৫ বছরের ১৬ হাজার ৪৪৬ জন, ৪৬ থেকে ৪৯ বছরের ১২ হাজার ৯৮৫ জন, ৫০ থেকে ৫৩ বছরের ১০ হাজার ৭১২ জন, ৫৪ থেকে ৫৭ বছরের ৯ হাজার ৫২১ জন, ৫৮ থেকে ৬০ বছরের ৭ হাজার ৪৬৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৩৮২ জন।

ফুলগাজী উপজেলার বয়সভিত্তিক ভোটারের তথ্যে দেখা গেছে, এ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫৮ জন, ২২ থেকে ২৫ বছরের ১০ হাজার ২৫৬ জন, ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ১০ হাজার ৩৮৪ জন, ৩০ থেকে ৩৩ বছরের ৯ হাজার ৯০৮ জন, ৩৪ থেকে ৩৭ বছরের ১১ হাজার ৭০৩ জন, ৩৮ থেকে ৪১ বছর বয়সী ১১ হাজার ৬০৭ জন, ৪২ থেকে ৪৫ বছরের ১০ হাজার ৯৪৯ জন, ৪৬ থেকে ৪৯ বছরের ৮ হাজার ১১৬ জন, ৫০ থেকে ৫৩ বছরের ৬ হাজার ৬৪৩ জন, ৫৪ থেকে ৫৭ বছরের ৫ হাজার ৪৫৮ জন, ৫৮ থেকে ৬০ বছরের ৪ হাজার ৫৮৮ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ১৭ হাজার ৩৭০ জন।

অন্যদিকে পরশুরাম উপজেলার বয়সভিত্তিক ভোটারের চিত্রে দেখা গেছে, এ উপজেলায় মোট ভোটার ৯৫ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৩৪ জন, ২২ থেকে ২৫ বছরের ৯ হাজার ৫৬৩ জন, ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৯ হাজার ৩১৫ জন, ৩০ থেকে ৩৩ বছরের ৮ হাজার ৪৭৯ জন, ৩৪ থেকে ৩৭ বছরের ৯ হাজার ৮৮৪ জন, ৩৮ থেকে ৪১ বছর বয়সী ৯ হাজার ৯৫০ জন, ৪২ থেকে ৪৫ বছরের ৮ হাজার ৮৬০ জন, ৪৬ থেকে ৪৯ বছরের ৬ হাজার ৬১৫ জন, ৫০ থেকে ৫৩ বছরের ৫ হাজার ৩১০ জন, ৫৪ থেকে ৫৭ বছরের ৪ হাজার ৫৫৩ জন, ৫৮ থেকে ৬০ বছরের ৩ হাজার ৭৭৮ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ১৩ হাজার ৩৭০ জন।