ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক। তার স্ত্রী জান্নাতুল কারীম পেশায় একজন শিক্ষক। বর্তমানে এ দম্পতি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনুযায়ী ১ কোটি ২০ লাখ ২১ হাজার ৯১৩ টাকার সম্পদের মালিক। এ দম্পতি বছরে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৮ টাকা আয় করেন। এর মধ্যে ফখরুদ্দিনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর আয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৮ টাকা। তিনি ইতোপূর্বে ৬৫টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এরমধ্যে ১৭টি মামলায় অব্যাহতি ও ৪৮টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা চলমান রয়েছে।

ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনুযায়ী বর্তমানে মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ও তার স্ত্রী জান্নাতুল কারীম ১ কোটি ২০ লাখ ২১ হাজার ৯১৩ টাকার সম্পদের মালিক। এর মধ্যে তাদের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৫০ লাখ ২১ হাজার ৯১৩ টাকা ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার ১৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ও স্ত্রীর রয়েছে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৯১৩ টাকা। অন্যদিকে হলফনামা অনুযায়ী তার স্ত্রীর নামে কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই। এ দম্পতির বছরে আয় ৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৮ টাকা। তার স্ত্রী ব্যতীত দুই সন্তান তার উপর নির্ভরশীল, যাদের কোন আয় নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনের এপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া হিসেবে বার্ষিক আয় নেই। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত হিসেবে তার আয় না থাকলেও স্ত্রীর আয় ১৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। তিনি তার চিকিৎসা পেশা খাতে বছরে ৬ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন এবং তার স্ত্রী শিক্ষকতা খাতে বছরে আয় করেন ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফখরুদ্দিন অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮৫ হাজার ৮০৮ টাকা, তার স্ত্রীর রয়েছে ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯১৩ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির সাথে কিংবা সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে তার কোন বিনিয়োগ নেই। তার বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল যানের অধিগ্রহণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে দেড় লাখ টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর দেখানো হয়েছে ২ লাখ টাকা।

হলফনামায় দেখা গেছে, ফখরুদ্দিন মানিকের কাছে বাড়ি বা এপার্টমেন্ট নেই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে শুধুমাত্র ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ জমিতে ২০৬ বর্গফুট টিনশেড ঘরের কথা উল্লেখ করেছেন। যা অধিগ্রহণকালে মূল্য ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ও বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৭০ লাখ উল্লেখ করেছেন। তার একক বা যৌথ কিংবা তার স্ত্রীর নামে ঋণ, ঋণ খেলাপি কিংবা দেনা নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেশায় একজন চিকিৎসক। শিক্ষা জীবনে তিনি ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি সম্পন্ন করেছেন। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মোহাম্মদ নূর নবী, মাতা মাসুদা বেগম। তার দুই সন্তান রয়েছে।