ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। পেশায় ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা। তিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তা পরিত্যাগ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামায় দেখা যায়, তার স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য ৩৩৩ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ টাকা। তার মধ্যে অকৃষি জমি ৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫ টাকা, আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন ৪২ লাখ ৫২ হাজার ১৩০ টাকা এবং বাড়ি ও এ্যাপার্টমেন্ট ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৮৫৪ টাকা।
বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী মিন্টুর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ৪০১ টাকার। তার মধ্যে নগদ ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৪১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ১৫১ কোটি ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩৮ টাকা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র এবং ক্রিপটোকারেন্সি বিনিয়োগ ৭৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬৩ টাকা, বিমা ও ট্রাস্ট থেকে ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ২ লাখ টাকা, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৮ টাকা, আসবাবপত্র ১৬ লাখ ৮ হাজার ৮০৯ টাকা ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে ১৮ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার ১২৫ টাকা।
গত অর্থবছরে দেশের ভেতরে তার বার্ষিক আয় ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা। হলফনামায় দেশের বাহিরে থেকে তার কোন আয় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী, মিন্টু কৃষিখাত থেকে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা, বাড়ি, এ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থানসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া ২৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৯ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৩ টাকা, চাকরি থেকে ৪২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা আয় করেন।
হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করলেও আয়ের উৎসে ব্যবসা খাত থেকে কোনো ধরনের আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি মিন্টু। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ বর্ষে আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ১১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৯ টাকা। আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ১২ লাখ ১৬ টাকা। বিপরীতে তিনি আয়কর প্রদান করেছেন ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১৬ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নিজের নামে কোন ঋণ নেই। তবে তার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৯৪ কোটি টাকা ঋণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু হলফনামায় তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৮ টাকা। তার মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৬ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৩৯ হাজার ১২ টাকা। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ বর্ষে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ টাকা। আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩১৮ টাকা। আয়কর প্রদান করেছেন ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৪ টাকা।
অন্যদিকে নির্বাচনী হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর তিন পুত্র সন্তানের সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ কর বছরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বড় ছেলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখানো হয়েছে ৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৭ টাকা। আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৬ টাকা। আয়কর প্রদান করেন ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ১৭৩ টাকা।
তার মেজো ছেলে তাফসির মোহাম্মদ আউয়ালের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৯ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ২২ টাকা। আয় ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৫ টাকা। আয়কর প্রদান করেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৯ টাকা।
ছোট ছেলে তাজোয়ার মোহাম্মদ আউয়ালের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৬২৯ টাকা। আয়কর প্রদান করেন ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৫ টাকা।
হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে রাজধানীর সিএমএম আদালতে ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭ ধারায় ধানমন্ডি থানার একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। উচ্চ আদালত থেকে ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর জামিন লাভ করে এবং মামলাটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ২৬টি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সবকয়টিতে খালাস ও অব্যহতি পেয়েছেন।
হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, আবদুর আউয়াল মিন্টু ১৯৪৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শফিউল্ল্যাহ ও মাতার নাম বদরের নেছা। তার স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেছেন দাগনভূঞা আলাইয়াপুর ফরাজী বাড়ি। তিনি বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে বসবাস করছেন। তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়েছে স্নাতকোত্তর।
