বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে দেশের প্রান্তিক মানুষ সুফল পাবে। কৃষি, মৎস্য, জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এসব খাল দীর্ঘদিন ধরে দূষণ ও দখল হয়ে ছিলো। তবে এবার যত শক্তিশালী দখলদার হোক ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে, দুর্নীতির স্থান নেই। খাল দখলে যত বড়ই শক্তিশালী দখলদার হোক, ছাড় দেয়া হবে না।’ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে মিরসরাইয়ে বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
এসময় অর্থ মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও এনার্জি ক্রাইসিস চলছে, এরমধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থের বিষয়টি হিসেব রেখেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
তিনি আরো বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে। তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।’
বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক মিরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর খাল পুণঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে স্থানীয় মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম প্রমুখ।
মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে বামনসুন্দর এলাকার আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা পুণঃখনন করা হবে। বামনসুন্দর খাল মোট ২৪ কিলোমিটার। এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বামনসুন্দর খাল খননের ফলে ৫৬৪ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। আগে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে শুধু আমন চাষ করা যেত। এই খাল খননের ফলে বোরো মৌসুমে আবাদ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি উৎপাদন খরচে কমবে, আর্থিকভাবে লাভবান হবে কৃষকরা। প্রতি কিলোমিটার খাল খননে ১০ লক্ষ টাকা করে প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হয়েছে। মিরসরাই উপজেলায় ইতিমধ্যে ৫২ কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ৫ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে এবং সেচের আওতায় এসেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বামনসুন্দর খাল দিয়ে একসময় নৌকা চলাচল করত। কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়া হতো পণ্য বেচাকেনার জন্য। খাল দখল হয়ে যাওয়ায় এবং সংস্কার না হওয়ায় খালটি অকেজো হয়ে পড়ে।
