ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আর মাত্র দুইদিন বাকী থাকতে ফেনীতে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। জননিরাপত্তায় ফেনীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফেনীর বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী-১ আসনের সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় সেনাবাহিনী ছাড়া এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে ১২ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া নির্বাচনে ফেনীর অন্য দুটি আসনে ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে থাকবে। এছাড়া ফেনীর ৩টি আসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৭জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ৫ হাজার ৫৬৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মাঠে থাকবে। এছাড়া মাঠে থাকবে র্যাব সদস্যরা।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের (ফুলগাজী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া) তিন সীমান্তবর্তী উপজেলায় মাঠে থাকছে না সেনাবাহিনী। অন্যদিকে এ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
এ ব্যাপারে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন ব্রিফিংয়ে জানান, ফেনীর সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় সেনাবাহিনী ছাড়া এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। ফেনী-১ আসনের ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও জানান, ফেনী-২ আসনে (ফেনী সদর) ২ প্লাটুন এবং ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ‘মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া দৈনিক ফেনীকে জানান, নির্বাচনে ফেনী সদরে ৩ প্লাটুন এবং সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় ৬ প্লাটুন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। ফেনী-১ আসনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে না। এখানে বিজিবি দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া অন্য দুটি আসনে ৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে থাকবে। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকবে র্যাব সদস্যরা। র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ফেনীতে নির্বাচনে তিনটি আসনে ২টি করে মোট ৬টি টহল দলে ৪২ জন্য র্যাব সদস্য মাঠে থাকবে। এছাড়া রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ৩টি দলে ৩০ জন্য র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দৈনিক ফেনীকে বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলায় হওয়ার কারণে ফেনী-১ আসনের ৩ উপজেলায় সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে না। এ আসনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা মাঠে থাকবে। এছাড়া ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নিদেশনা অনুযায়ী অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ ১৫জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৩জন দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনমত বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অতীতের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিনসহ মোট সাতদিন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আট দিন। এ হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
আনসার-ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ফেনীর ৪২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫৫৬৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রসহ তিনজন এবং দুইজন সদস্য সুরক্ষা এপসে এন্ড ইউজার হিসেবে সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীতে ৩টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ২৪৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপুর্ণ এবং ৫৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
