২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।


ফেনী কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারি পরিচালক মোঃ নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।


মামলার প্রধান অভিযুক্ত হলেন মহিউদ্দিন দিদার (৪৯)। অপর অভিযুক্তরা হল আনোয়ার হোসেন (৪৮), আশ্রাফ উল্লাহ রাসেল (৪৭), জসিম উদ্দিন (৪৯) ও নুরুল আমিন (৪৫)।


মামলার এজাহারে মোঃ নিজাম উদ্দিন উল্লেখ করেন, রবিবার দুপুরে আনোয়ার হোসেন ও নুরুল আমিন আমার অফিসে ভিয়েতনামে ভ্রমন ভিসায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে আসে। ভ্রমণ ভিসায় কোন প্রকার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হয় না, তাদের জানালে আনোয়ার হোসেন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ হুমকি প্রদান করে বের হয়ে যায়। এরপর দুপুরে তারা দলবদ্ধ হয়ে এসে পুনরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের এলে আমি অপারগতা জানালে মহিউদ্দিন দিদারের নেতৃত্বে আসামীরা আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করার চেষ্টা করলে দিদার আমার ল্যান্ডফোন সেটের লাইন ছিঁড়ে ফেলে ও সেটটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মোবাইল ফোনে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাতে চাইলেও তারা আমার ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আমার টেবিলের উপর চেয়ার দিয়ে আঘাত করে গ্লাসসহ ৪টি চেয়ার ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে আমার শোর চিৎকারে অফিসের লোকজনসহ স্থানীয় জনসাধারণ এগিয়ে আসে। এসময় নুরুল আমিন পালিয়ে যায়। আমি স্থানীয়দের সহায়তায় আমি দিদারসহ ৪জনকে আটক করে পুলিশে খবর দেই।
হামলায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় নিজাম উদ্দিন উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মহিউদ্দিন দিদার। তিনি বলেন, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তিনি বা তার লোকজন জড়িত নন। জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করাতে এলে ঘুষ দাবী করে অফিসের কর্মকর্তা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে বাককিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অফিসের লোকজন আমাদের একটি রুমে আটক করে রাখে। পুলিশি সহায়তা চেয়ে আমরা জরুরী সেবা নম্বরে ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ এসে আমাদের নিয়ে যায়। অফিসে কে কাবা কারা ভাংচুর করেছে আমি জানিনা। তবে এ ঘটনায় বাবু নামে একজন জড়িত আছে বলে জানতে পেরেছি।


ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় মহিউদ্দিন দিদার, আনোয়ার হোসেন, আশ্রাফ উল্লাহ রাসেল ও জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে।