দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কারের অভাব এবং অবৈধ বালুবাহী ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত সোনাগাজী পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অবশেষে সাময়িক মেরামত কাজ শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে এই ‘জোড়াতালি’ সংস্কারকে দায়সারা আখ্যা দিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বছরের পর বছর একইভাবে অস্থায়ী সংস্কার নয়-টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সরেজমিনে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পৌরসভার জিরো পয়েন্ট, বাজার এলাকা, মানিক প্লাজা সংলগ্ন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বড় বড় খানাখন্দে সড়কগুলোর বেহাল দশা। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে নিচের মাটি বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ভরে ছোট ছোট জলাধারে পরিণত হচ্ছে, ফলে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের জন্যও সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে চলাচলকারী বালুবাহী ভারী ট্রাকই মূলত সড়কের এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব ট্রাক দিন-রাত অবাধে চলাচল করায় সদ্য সংস্কার করা সড়কও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্তমানে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে গর্ত ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের সংস্কার একমাসও টেকে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহফুজ আলম বলেন, এই সমস্যা নতুন নয়। প্রতি বছর একইভাবে ইট ফেলে সংস্কার করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পথচারী নুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সময় চলাচল করা যায় না। গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। দায়সারা সংস্কার না করে টেকসইভাবে সড়ক নির্মাণ করা জরুরি।

মানিক প্লাজার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালুর ট্রাক বন্ধ না করলে কোনো উন্নয়নই টিকবে না। আগে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তারপর স্থায়ী উন্নয়ন করতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করা না হলে সোনাগাজী পৌর শহরের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে না। স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে বুধবার সকালে মেরামত কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রিগ্যান চাকমা। তিনি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ইউএনও বলেন, জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত সাময়িক মেরামত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে আরসিসি ঢালাইয়ের স্থায়ী কাজ শুরু হবে।