সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জেরে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত দুইজন। এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত খুরশিদ আলম সুমনের মা ছকিনা বেগম বাদী হয়ে শনিবার সোনাগাজী মডেল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন লক্ষীপুর গ্রামের মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে মোঃ হারুন, আনার আহাম্মদের ছেলে মোঃ সুমন, মৃত ছোলোমান বাদশার ছেলে গোলাম মাওলা রাজু, শামসুল হকের ছেলে মোরশেদ আলম, মোঃ ইসমাইল, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নুর ইসলাম, ছোট মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন এবং সমপুর গ্রামের এনামের ছেলে মোঃ দিদার।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষীপুর গ্রামের সুমন ও হারুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে মিয়ারবাজার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে হারুন তার সহযোগীদের নিয়ে সুমনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় সুমনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাই ফয়সাল আহম্মেদও হামলার শিকার হন।

পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। অপরদিকে ফয়সাল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, কিরিচ, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় এবং গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়া পূর্ব বিরোধের জেরে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত হারুন ও সুমন উভয়েই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তাদের কোনো পদ-পদবি নেই। পূর্বে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মঙ্গলকান্দি লক্ষীপুর এলাকার মোরশেদ আলম ও মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় এলাকবাসী জানিয়েছে, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর সুমনের ১ বছরের কারাদন্ড হয়। পরে সাজাভোগ করে মুক্তি পেয়ে রাজমেস্তরির কাজ করে। ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর সুমন যুবদলরের ব্যানারে এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অপর দিকে হারুন একসময় যুবলীগ রাজনীতিতে জড়িত ছিল। ১৯৯৭ সালে ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করে। দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা তাকে ধরিয়ে দিয়েছে সন্দেহে দল পরিবর্তন করে যুবদল রাজনীতিতে যোগ দেয়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে কখনো আত্মগোপনে কখনো এলাকায় চুপচাপ সময় পর করেছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন, এরা উভয় গ্রুপ মাদক কারবারি। তাদের কোন পদ-পদবি নেই। 

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা বলেন, হারুন ও সুমন যুবদলের কেউ হয়। কোন অপরাধীর দায় ভার দল বহন করবে না।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।