পরশুরামে কালবৈশাখীর তান্ডবের পর থেকে ৮০ ভাগ এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড়ে পরশুরামে বিদ্যুতের অবকাঠামো, মানুষের ঘরবাড়ি, গাছপালা, বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার গ্রাহক। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

‎‎মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এর আগের দিন সোমবার পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করা হলেও নতুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্র জানায়,মঙ্গলবারে নতুন করে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে বিদ্যুৎ সংযোগ তারের উপরে বিভিন্নস্থানে শতাধিক গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। পরশুরাম উত্তর বাজারে কহুয়া নদীর উপরে নির্মিত সেতুর পাশে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে।এছাড়াও আরও দুটি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙ্গার খবর মিলেছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ঝড়ের তীব্রতায় বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। বিভিন্ন স্থানে ২০ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছিল।৮৭ টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে,৮ টি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির ছয়টি ক্রসআর্ম ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া শতাধিক গ্রাহকের মিটার খুলে পড়ে গেছে বলে বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছিল।

‎‎রবিবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার পৌরসভা, মির্জানগর,চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলেও সোমবার রাত ৯ টা থেকে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে প্রচন্ড বজ্রপাত শুরু হলে 'ব্ল্যাক আউট' এর কবলে পড়ে পুরো পরশুরাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পরশুরাম বাজার ও পৌরসভায় কয়েকটি ফিডারে মাধ্যমে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে রয়ে যায়।

পৌরসভার দুবলাচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা অনিক মজুমদার জানান, গত তিনদিন ধরে দুবলাচাঁদ, বিলোনিয়া, বাউরখুমা,বাউরপাথর গ্রাম তিন দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুতের তারে বেশকিছু গাছ পড়েছে।

এদিকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে পরীক্ষার কাগজে লিখেছেন পরীক্ষার্থীরা। পরশুরাম কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নুরজাহান আক্তার জানান, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল।পৌনে বারোটার দিকে চারিদিক অন্ধকার করে ঝড় শুরু হলে বিদ্যুৎ চলে যায়,তখন মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিই।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির(ডিজিএম) মুঃ সুহেল আখতার বলেন,রবিবারের ঝড় ও বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের অবকাঠামো ৭৫ শতাংশ মেরামত করা হয়েছিল। মঙ্গলবারে ঝড় ও বজ্রপাত না হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যেত কিন্তু নতুন করে ঝড় বজ্রপাতে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যায়। পল্লী বিদ্যুতের জনবল অবকাঠামো মেরামতে বিরামহীন ভাবে কাজ করছে।