সারাদেশের ন্যায় গতকাল মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে ফেনীর ৭টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। এতে অংশ নিচ্ছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃত্তি পরীক্ষার মোট ৫ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থীরা মধ্যে প্রথম দিন ফেনীতে অংশ নেয়নি ১ হাজার ৫৪৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২৯ শতাংশ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৩ হাজার ৭৮৮জন পরীক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩৭ জন ছাত্র ও ২ হাজার ৩৫১জন ছাত্রী। অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা তেমন একটা ভাল হয়নি। কারণ হিসেবে অভিভাবকরা বলছেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সাড়ে চার মাস পর পড়াশোনার চাপে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তারা তেমন মনযোগ দিতে পারেনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রদত্ত তথ্যমতে, ফেনী সদরে ১ হাজার ৮৭৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ হাজার ২২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬৫.২৬ শতাংশ। দাগনভূঞায় ৯৯১জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৭২৫জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭৩.১৬ শতাংশ। সোনাগাজীতে ৮৩৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৬৩০জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭৫.০৯ শতাংশ। ছাগলনাইয়ায় ৬৬০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৪৩৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬৫.৯১ শতাংশ। পরশুরামে ৪৪৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৩৫৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭৮.৬২ শতাংশ। ফুলগাজীতে ৫১৮জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৪২০ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮১.০৮ শতাংশ। অন্যদিকে ইংরেজি ভার্সনে ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১১জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৪.৬২ শতাংশ।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা আদালতে মামলা করায় বৃত্তি পরীক্ষা যথাসময়ে হয়নি। আগের বৃত্তি পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হত। আইনি জটিলতার কারণে এবার দেরিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মেধা বিকাশ ঘটে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে। তাদের প্রস্তুতি তেমন ভাল ছিল না।

নার্গিস আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা সামলাবে, না বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে-এমন দ্বিমুখী জটিলতায় পড়েছে অভিভাবক ও সন্তানরা।

জুরাইন প্রতীক নামে আরেক অভিভাবক ফেসবুকে মন্তব্য করেন, আমার ভাগিনা বৃত্তি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছে। নতুন ক্লাসে ওঠার পর আবার পুরনো ক্লাসে ফেরা, তারপর পরীক্ষা শেষ করে ৪দিন পর আবার ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসে, ঠিক যেমন নাচায়, তেমন নাচে পুতুল।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষীকেশ শীল জানান, প্রথমদিন সুষ্ঠ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমদিন বাংলা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৪৬জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। তবে কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনি জটিলতায় ২০২৫ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এতে পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই ৫টি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে অংশ নিচ্ছে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

এবার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে অন্য জেলায়

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, প্রেরণ ও মূল্যায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষে প্রতিদিনের উত্তরপত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উপজেলা থেকে জেলায় পাঠাতে হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা গ্রহণের পর উত্তরপত্র চট্টগ্রাম বিভাগে পরিচালকের অফিসে পাঠানো হবে। পরীক্ষার শেষে সেখান থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষীকেশ শীল জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে চট্টগ্রামে পরিচালকের অফিস থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফেনীর পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নোয়াখালী না লক্ষীপুরে পাঠানো হবে তা নির্ধারণ করবে বিভাগীয় কার্যালয়।

অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভাগীয় উপপরিচালকদের ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এক জেলার উত্তরপত্র অন্য জেলায় পাঠানোর অফিস আদেশ জারি করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৬১ জেলার উত্তরপত্র ২০ এপ্রিলের মধ্যে এবং পার্বত্য জেলার উত্তরপত্র ২২ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠাতে হবে। এ দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইংরেজি ভার্সনের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সূচি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।