দাবির মুখে হোল্ডিং ট্যাক্স কমাচ্ছে ফেনী পৌরসভা
পৌরসভার ভবন মালিকদের দাবির মুখে হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিমাণ কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফেনী পৌরসভা। একই সঙ্গে যেসব নাগরিক ইতোমধ্যে বাড়তি পৌরকর পরিশোধ করেছেন, তাদের পরবর্তী অর্থবছরের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা সমন্বয় করার আশ্বাস দিয়েছে পৌরসভা।গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, নতুন এসেসমেন্ট অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের ক্ষেত্রে মোট আয়ের হিসাব থেকে পানির বিল, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে। মোট আয়ের ১৯ শতাংশের হিসাব থেকে যাদের পানির বিল নেই, তাদের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ বাদ দিয়ে ১৭ শতাংশের ভিত্তিতে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। আগে এই হিসাবের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধরে বিল ইস্যু করা হলেও এখন তা সাত ভাগের এক ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।সচেতন নাগরিক সমাজ ফেনী পৌরসভার মুখ্য সমন্বয়ক মীর মাসুদ পারভেজ বলেন, আন্দোলনকারীরা যে দাবিগুলো করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ট্যাক্স কমানো। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এতে রাজি হওয়ায় আমরা অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করিনি। পৌরসভায় কিছু অভ্যন্তরীণ সভা রয়েছে। সেসব সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে পৌরসভা।তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল নতুন নির্ধারিত কর বাতিল করা। আলোচনার মাধ্যমে সেটি সমন্বয় করার আশ্বাস দিয়েছে পৌরসভা। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে নাগরিকরা খুশি হবে। সাত ভাগের এক ভাগ হওয়ায় ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।তিনি আরও বলেন, অতীতে দলীয় পরিচয়ে যারা অনেক বেশি কর কমিয়েছেন, তাদের বিষয়েও পৌরসভা সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া পৌরসভায় এমন কিছু পরিবার রয়েছে, যাদের বাড়ি আছে কিন্তু আয় নেই। তাদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পৌরসভা। আমরা আশাবাদী, পৌরসভা আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করবে।এ প্রসঙ্গে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আশরাফুল হায়দার রিংকু বলেন, এখন যে এসেসমেন্ট করা হয়েছে, সেটির সাত ভাগের এক ভাগ করা হয়েছে। যাদের আগে ২ হাজার টাকা কর ছিল, তাদের ৩০ হাজার টাকা হয়েছেÑএমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিষয়ে পৌরসভা আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।তিনি বলেন, এটি যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন ছিল। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছিল। সেটি বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে যারা বাড়তি টাকা দিয়েছেন, তাদের বিষয়ে আগামী অর্থবছরে সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নাগরিকরা সহযোগিতা করলে কাজগুলো আরও সহজ হবে।নতুন এসেসমেন্ট অনুযায়ী নির্ধারিত ট্যাক্সের পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে যেসব নাগরিকের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় করের পার্থক্য এখনও বেশি থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পৌরসভায় আবেদন করলে কর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এর আগে নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের পর ফেনী পৌর এলাকার নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। কারও কর কয়েক গুণ, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক দশক পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে নাগরিকরা নতুন নির্ধারিত কর প্রত্যাহার, পুনর্মূল্যায়ন এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কর নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে সভায় বসে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।এর আগে নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে নাগরিকরা অভিযোগ করেছিলেন, কারও ২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা, কারও ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা এবং কারও ২ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, অভিযোগ থাকলে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফেনী পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ হোল্ডিং ট্যাক্স গ্রাহক রয়েছেন। বিভিন্ন কারণে আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার হোল্ডিং করের আওতার বাইরে রয়েছে। গত অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকা আদায় হলেও চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত করের ভিত্তিতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ কোটি টাকা।এ ব্যাপারে ফেনী পৌরসভা প্রশাসক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।