প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে
||
ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬০৫ জন ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। চলতি মাসের গত ২৩ দিনে শনাক্ত হয়েছে ৩৫৯ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুনের বেশি বেড়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৬০৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১১ জন, দাগনভূঞায় ১ জন এবং সোনাগাজীতে ২ জন, ছাগলনাইয়ায় ২ জন ও পরশুরামে ৫ জন শনাক্ত করা হয়।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১৪৫ জন। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনেই শনাক্ত হয়েছে ৩৫৯ জন।জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। মোট ৬০৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪৩৬ জন এই উপজেলার। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে দাগনভূঞায় ৪৮, সোনাগাজীতে ৫১, ছাগলনাইয়ায় ৩০, পরশুরামে ২৫ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৪৩১ রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০৩ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ২ জন, সোনাগাজীতে ১ জন, দাগনভূঞায় ১জন এবং পরশুরামে ৫ জন ভর্তি রয়েছেন।ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি সত্যিই চিন্তার বিষয়। আগে ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর কথা শুনতাম, এখন জেলা শহর থেকে গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। মশক নিধনে প্রশাসনের সমন্বিত ও জোরদার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ফেনী শহরে মানুষের চাপ ব্যাপক বেড়েছে। যার ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলছে।এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. রোকন উদ দ্দৌলা জানান, এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর ব্যাপক ভিড়, তার ওপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসময় সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ড. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৬ হাজার ৯৪১টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৫ হাজার ৫৮৮টি, পরশুরামে ৩৪১টি, সোনাগাজীতে ৮০টি, ফুলগাজীতে ৪৫টি, দাগনভূঞায় ২০টি এবং ছাগলনাইয়ায় ৮৬৭টি কিট মজুদ রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী