প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনাক্ত হলেও এখনো অধরা তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনীর মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে জড়িত চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা গেলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে তারা। ঘটনার এক মাস হতে চললেও উদ্ধার হয়নি লুট করা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িত দুই চোরচক্রের সদস্যকে ধরতে অভিযান চলছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সাজেদ কামাল জানান, এ ঘটনায় জড়িত দুই চোরকে ধরতে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের দুটি দল কাজ করছে।মামলার বাদী প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন। চুরি হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, চোরদের ধরতে পুলিশের সাথে অনেক জায়গায় তিনি নিজে গিয়েছেন। তবুও তারা এখনো অধরা রয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার ছুটি শেষ হওয়ায় তিনি প্রবাসে ফিরে গেছেন।এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। আশা করি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গত ২১ আগস্ট গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সাথে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তবে সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি। পরে সোহেলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ডে তার কাছ থেকে পুলিশ এ ঘটনার ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়েছে। তার সঙ্গে লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ছুরি ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার সোহেল লুট করা রেহান ম্যানশনের পাশের একটি ভবনের ভাড়াটিয়া। লুটের এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেছে রেহান ম্যানশনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের স্ত্রী ফাতেমা। সজীব গ্রেপ্তার হওয়া ভ্যানচালক সোহেলের ছোট ভাই। এছাড়া লুটের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকেও শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ।মামলার বাদী জানান, এ ঘটনায় তার বাসার তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের স্ত্রী ফাতেমা ঘটনায় জড়িত হলেও পুলিশ তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই দুই ব্যক্তি ও লুট করা স্বর্ণালঙ্কারের সন্ধান মিলতে পারে।এর আগে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামানের বাসায় দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার জানান, বাসায় ঢুকে ওই দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে মুখ চেপে বাথরুমে আটকে রাখে। এ ঘটনার পরদিন দেশে আসার পর ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান। তিনি বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।ওইদিনের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ পরিহিত একজন এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা টুপি ও শার্ট পরিহিত আরেকজন রেহান ম্যানশনের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। ফুটেজের সময় অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে তারা দ্বিতীয় তলায় উঠে বাসার কলিংবেল চাপ দেন। শাহানা আক্তার দরজা খুললে টুপি পরিহিত ব্যক্তি তাকে মুখ চেপে ধরে ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে যান।ফুটেজে তাদের দুজনকে বাসায় প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পরে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তারা বাসার দরজা খুলে বের হয়ে যান। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডে তাদের ওই ভবন থেকে বের হতে দেখা যায়। এরপর পর থেকে উধাও হয়ে যান তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী