প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে আরও ১৯৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর শনাক্তকৃত ৪৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ শনাক্ত করা হয়েছে গত ১৫ দিনে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ফেনীতে ৪৪১ জন ব্যক্তির ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১২১ জন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শহরের মিজান রোডের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের ব্যবসায়ী গোলাম সারওয়ার টিপু নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বাধিক। আগস্টে শনাক্ত করা হয়েছে ১৪৫জন ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ৩১১জন আক্রান্ত হয়েছেন ফেনী সদরে। এছাড়া দাগনভূঞায় ৪৫, সোনাগাজীতে ৩৯, ছাগলনাইয়ায় ২১, ফুলগাজীতে ১৩ এবং পরশুরামে ১২ জন ব্যক্তির ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্ত ২১ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ১৩জন, দাগনভূঞা একজন, সোনাগাজীতে ৫জন ও ফুলগাজীতে ২জন রয়েছেন। ডেঙ্গু শনাক্তকৃতদের মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সে ২জন এবং ছাগলনাইয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬জন সহ মোট ২৫ চিকিৎসা নিচ্ছেন।সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনী ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ২ হাজার ১৮৭টি কিট মজুত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।শহরে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তবে ফেনী পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারেও জোর দেওয়া হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণ পদ সাহা জানান, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তবে অনেকে ঢাকা বা জেলার বাইরে থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ফেনীতে আসছেন। এ কারণে ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বাসার আশপাশে জলাবদ্ধ জায়গা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী