প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রামপুরে অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কে জলজট
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনী পৌরসভার রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের একটি অংশে ড্রেনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় রাস্তায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ড্রেনটি পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফেনী পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের মাস্টার বাড়ি থেকে রামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কে পানি জমে রয়েছে। মাস্টার বাড়ি সামনে একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। পুকুর জুড়ে আগাছা জন্মেছে। পুকুরের বদ্ধ পানিতে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুকুরের পানি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কোটি টাকা ব্যয়ের সিসি ঢালাই ড্রেন থাকলেও একটি স্ল্যাব পড়ে থাকায় ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি না হলেও রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের ওই অংশে দীর্ঘদিন পানি জমে রয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের পাশে আবদ্ধ পুকুর, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। পাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।পুকুরটির পাশে রয়েছে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়ি 'ইসলাম মঞ্জিল'। তিনি বলেন, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের পাশের ড্রেনে একটি স্ল্যাব পড়ে আছে। এ কারণে প্রায় তিন বছর ধরে ড্রেনটি পরিষ্কার করা হচ্ছে না। স্ল্যাবটি উঠানোর জন্য আমি তিনবার পৌরসভায় আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তৌহিদুল ইসলাম তুহিন আরও বলেন, আমি ও আমার বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। আমাদের পাশের রফিক ম্যানশন, মাওলানা ম্যানশন, জোবায়ের ভবন ও হাজী ওহাব ভবনসহ কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারাও ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রফিক ম্যানশনের ভাড়াটিয়া মোকসেদুর রহমান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।দ্রুত ড্রেনের স্ল্যাব অপসারণ করে ড্রেন পরিষ্কার, পুকুরের ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ফেনী শাহীন একাডেমি স্কুলের সহকারি শিক্ষক মো. করিম উল্ল্যাহ জানান, বাসাবাড়ির ময়লা পানি সংযোগ ড্রেনের মাধ্যমে গিয়ে পৌরসভার ড্রেনে গিয়ে পড়ে। ড্রেনে পানি জমে থাকায় স্থানীয়দের নানা দুর্ভোগে পড়তে হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিন জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রামপুরে ড্রেনেজ কাজ করা হয়েছে। ড্রেনে স্ল্যাবে পড়ে থাকার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। এ ব্যাপারে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ফেনী পৌরসভার স্যানেটারি পরিদর্শক ডা. কৃষ্ণপদ সাহা জানান, পৌরসভার সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন করা হয়েছে। স্ল্যাবটি ভারী হওয়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তা ড্রেন থেকে সরাতে পারেনি, ফলে ড্রেনটি পরিষ্কার করা যায়নি। এটি সরাতে হলে রেকারের প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী