প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাজের খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন, পরশুরাম থেকে ফিরছেন লাশ হয়ে
পরশুরাম প্রতিনিধি ||
জীবিকার তাগিদে বয়সের ভার উপেক্ষা করে প্রায় ১৫ দিন আগে নেত্রকোনা থেকে ফেনীর পরশুরামে এসেছিলেন শুকুর আলী মোড়ল (৬০)। পরিবারের সদস্যদের রেখে কাজের সন্ধানে আসা সেই মানুষটি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন একটি চায়ের দোকানের চেয়ারে। সেই ঘুম আর ভাঙেনি। পরশুরাম স্টেশন রোডের আসলাম মিয়ার চায়ের দোকানে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এখন স্বজনদের কাছে ফিরছেন লাশ হয়ে।মৃত শুকুর আলী নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার গুজিরকোনা গ্রামের মৃত শহর আলী মোড়লের ছেলে।শুকুর আলীর প্রতিবেশী সাদেক মিয়া বলেন, পরিবারের সদস্যদের রেখে জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজের জন্য পরশুরামে আসেন শুকুর আলী। শুক্রবার রাতে স্টেশন রোডের আসলাম মিয়ার চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন। পরে দোকানের একটি চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দেখা যায়, ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। শুকুর আলী ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান তিনি।বৃদ্ধ বয়সে জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে দূরে এসে শুকুর আলীর এমন মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, মৃত্যুর পর শুকুর আলীর সঙ্গে কাজে আসা কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার মরদেহ স্টেশন রোড এলাকার একটি মসজিদে নিয়ে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয়রা অর্থ সংগ্রহ করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।শুকুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন মোড়ল মুঠোফোনে বলেন, বাবাকে কাজে যেতে নিষেধ করেছিলাম। আমাদের পারিবারিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবুও তিনি কথা না শুনে কাজে গেছেন।এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল দৈনিক ফেনীকে বলেন, শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তার মরদেহ বাড়িতে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী