প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাগলনাইয়াতে পরকীয়া প্রেমিকার বাসায় যুবকের মৃত্যু র্ঘিরে ধোঁয়াশা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ছাগলনাইয়া ||
ছাগলনাইয়ায় পরকীয়া প্রেমিকার ঘর থেকে সুমন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পুর্ব পাঠানগড় তোমাক আলী ফরায়জী বাড়ীর প্রবাসী সালেহ আহমদের ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারজানা আক্তার নামে ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত সুমন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর চান্দিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের বড় ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাননগর ইউনিয়নের পুর্ব পাঠানগড় প্রবাসী সালেহ আহমেদের স্ত্রী ফারজানা আক্তারের (৪০) সাথে দীর্ঘদিন ধরে সুমনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সুমনকে প্রায় ফারজানার ঘরে আসা-যাওয়া করতে দেখা যেত। গত মঙ্গলবার বিকেলে সুমনকে ফারজানার ঘরে প্রবেশ করতে দেখেছে স্থানীয় লোকজন। পরদিন সকালে ওই ঘর থেকে সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়।সুমনের মৃত্যুর ব্যাপারে ফারজানা আক্তার জানায়, সুমনের সাথে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তারা মোবাইলে কথা বলত। মঙ্গলবার দুপুরে সুমন তার ঘরে আসে এবং পুরো দিন সেখানে থাকে। সন্ধ্যায় সুমন ফারজানাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে সুমন বাথরুমে ঢুকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।ফারজানা জানায়, দীর্ঘক্ষণ বাথরুমে থাকার পর সুমন বের না হওয়া সন্দেহ হলে বাথরুমের দরজা খুলে দেখতে পাই সে আত্মহত্যা করেছে। পরে আমি তাকে বাথরুম থেকে বিছানায় নিয়ে আসি।অন্যদিকে সুমনের স্ত্রী নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, ফারজানা আক্তার তাকে বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফারজানা সুমনকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যেতো এবং আমার স্বামীর অনেক টাকাও সে আত্মসাৎ করেছে। পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার স্বামীর সকল টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে শেষ পর্যন্ত আমার সুখের সংসারে আগুন লাগিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমনের মৃত্যু প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে। ওসি জানান, ওই ঘরের মালিক ফারজানা আক্তার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী