প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
এক সড়কেই দুই ইউনিয়ন, ৬৪ বছরেও মেলেনি সীমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফুলগাজী ||
একই সড়ক। এক পাশে এক ইউনিয়ন, অন্য পাশে আরেক ইউনিয়ন। কোথাও গ্রামের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের মিল নেই, আবার যে বাজারকে ঘিরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সেই বাজারও বিভক্ত দুই ইউনিয়নের প্রশাসনিক সীমানায়। বাজার এক, হাসপাতাল একদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ অন্যদিকেÑদীর্ঘদিনের এই বিভাজনে প্রশাসনিক সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ফুলগাজীর মুন্সীরহাট ও দরবারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের সিলোনিয়া নদীর সেতু এলাকা থেকে উত্তর দিকে এগোলে সড়কের এক পাশে দরবারপুর ইউনিয়ন, অন্য পাশে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকা। এর কাছেই ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দরবারপুর ইউনিয়নে। অথচ অল্প দূরেই ফতেহপুর গ্রাম ও নতুন মুন্সীরহাট বাজার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।পুরোনো মুন্সীরহাট বাজারের কাছেই দরবারপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। অন্যদিকে ফেনী–পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের পাশে ফতেহপুর মৌজার নতুন মুন্সীরহাট বাজারে স্থাপন করা হয়েছে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। ফলে একই বাজারকেন্দ্রিক মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রার সঙ্গে প্রশাসনিক পরিচয়ের এই বিভাজন স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন হয়ে আছে।মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কামাল্লা, পৈথারা, দক্ষিণ তারালিয়া, কমুয়া, বালুয়া, দক্ষিণ শ্রীপুর ও কুতুবপুরসহ কয়েকটি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতের কেন্দ্র মুন্সীরহাট বাজার। বাজার, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তারা এ পথেই চলাচল করেন। অন্যদিকে বসন্তপুর, জগতপুর ও দক্ষিণ বরইয়া গ্রামের বাসিন্দাদের নিজ ইউনিয়ন পরিষদে যেতে অন্য ইউনিয়নের সামনে দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, একই রাস্তার দুই পাশে দুই ইউনিয়ন হওয়ায় মানুষ প্রশাসনিক বিভ্রান্তিতে পড়েন। জরুরি সেবা নিতেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, বর্তমান সীমানার সূত্রপাত পাকিস্তান আমলের ১৯৬২ সালের ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ ব্যবস্থার সময়কার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই সীমানা জটিলতা বাস্তবতার আলোকে যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, তৎকালীন বৃহত্তর মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরে মুন্সীরহাট ও দরবারপুর ইউনিয়নে বিভক্ত হয়। তবে এ দাবির স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, মুন্সীরহাট ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২২ হাজার ৬৭ জন এবং আয়তন ১৮ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার। দরবারপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ২৩৮ জন ও আয়তন ১১ দশমিক ৬২ বর্গকিলোমিটার।স্থানীয়দের দাবি, মানুষের বসতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও বাজারকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে প্রশাসনিক সীমানার সামঞ্জস্য বিবেচনা করে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।এ ব্যাপারে জানতে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী