প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
হামের সঙ্গে লড়াই বাবা-মায়ের কোল খালি করে চলে গেল সাইফান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস বয়স। পৃথিবীটা ভালো করে চিনে ওঠার আগেই হামের সঙ্গে হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল মোহাম্মদ সাইফানকে। একসময় খিঁচুনি, পরে মস্তিষ্কের ক্ষতি, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, এরপর শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা। একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত রাখা হয় লাইফ সাপোর্টেও। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বাবা-মায়ের কোল খালি করে গেল ছোট্ট এই শিশুটি।সাইফানের বাবা মোহাম্মদ কাওছার দৈনিক ফেনীর চিত্র সাংবাদিক এবং ড্রিম আর্টিসানের স্বত্ত্বাধিকারী। মা ফোজিয়া আক্তার ইভা। সাইফান ছিল এ দম্পতির প্রথম সন্তান। চলতি বছরের মার্চের ৪ তারিখ ভূমিষ্ট হয়েছিল সে। প্রিয় সন্তানকে বুকে নেওয়ার সাড়ে ৫ মাসের মাথায় তার মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তারা।গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালের দিকে ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের মাদ্রাসা রোডের ওয়াজ পাটোয়ারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে সাইফানকে দাফন করা হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট সকালে সাইফানের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়। এর আগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল তার। তখন ফেনীর স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। ‘লুতি’ বা লালচে দানা ওঠেছে বলে কয়েকদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফেনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা চট্টগ্রামে নিতে বলেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় সাইফন।সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক সাইফানের বাবা মোহাম্মদ কাওছার। তিনি বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে সন্তানকে ঢাকায় নিয়ে মহাখালীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। সেখানে ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে পরপর দুবার খিঁচুনি হলে সাইফানের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর হৃদযন্ত্রের জটিলতাসহ শরীরে আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়।তিনি বলেন, টানা ১৩ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল সাইফান। শেষ দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়। ২০ আগস্ট রাতে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১২টার পর সেখানেই মারা যায় সাইফান।সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে কাওছার বলেন, আমার সন্তানের মতো আর কোন শিশু যেন হামে আক্রান্ত হয়ে এভাবে প্রাণ না হারায় সেজন্য পরিবার থেকে শুরু করে সরকারকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।সাইফানের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাসের কিছু বেশি। অর্থাৎ নিয়মিত সূচির হামের টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী