প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীকে বাথরুমে আটকে রেখে ১৫ মিনিটে দুর্ধর্ষ চুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনীর মহিপালে বাসায় ঢুকে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে এক গৃহবধূকে চোখের পলকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়েছে দুই সদস্যের একটি চোরচক্র।বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তারের দাবি, ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে জিম্মি করে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১২-১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে তারা।বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ পরিহিত একজন এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা টুপি ও শার্ট পরিহিত আরেকজন রেহান ম্যানশনের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। ফুটেজের সময়ানুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে তারা দ্বিতীয় তলায় উঠে বাসার কলিংবেল চাপ দেন। ভেতর থেকে শাহানা আক্তার দরজা খুললে সঙ্গে সঙ্গে টুপি পরিহিত ওই ব্যক্তি শাহানাকে মুখ চেপে ধরে ভেতরে রুমের দিকে নিয়ে যান।ফুটেজে তাদের দুইজনকে ঘরে প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে। আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ওই দুই ব্যক্তি বাসার দরজা খুলে বের হয়ে যান। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডে ওই ভবন থেকে বের হন তারা।ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে আমাকে বাথরুমে বন্দী করে রাখে। তখন আমার ছেলে স্কুলে থাকায় বাসায় একা ছিলাম। তারা আমার সন্তানকে বাসার নিচে জিম্মি করা হয়েছে বলে জানায়। এরপর ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যায় তারা দুইজন। বাথরুমে বন্দী অবস্থায় আমার শোর চিৎকার শুনে পাশের বাসার এক প্রতিবেশী এগিয়ে এসে দরজা খুলে আমাকে সেখান থেকে বের করে আনে। বের হয়ে দেখি ঘরের সবকিছু এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। তিনি বলেন, বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১২-১৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। বাড়ির নির্মাণ কাজের জন্য মাসখানেক আগে ব্যাংক থেকে টাকাগুলো উঠিয়ে বাসায় রাখা হয়। এছাড়া ঘরের মধ্যে থাকা আমার বোনের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার একটি কাঁথায় মোড়ানো ছিল। সেগুলো দেখতে পাননি তারা। পরে পুলিশ এসে সেগুলো দেখতে পেয়ে আমার হাতে তুলে দেয়।গৃহবধূ আরও বলেন, আমার স্বামী সৌদি প্রবাসী। তিনি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি দেশে এলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক অলি আহাদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার পড়ে থাকতে দেখে তা ওই গৃহবধূর হাতে তুলে দিয়েছি। বাসায় বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে-এমন তথ্য জানা কেউই এ ঘটনার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। ওই গৃহবধূর স্বামী দেশে আসার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবারটি। পুলিশ চোর সনাক্তে কাজ করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী