প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মামলা নিতে ‘অস্বীকৃতি’, দাগনভূঞার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
আদালত প্রতিবেদক ||
যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই অভিযোগসহ আরেকটি মামলা নিতে এবং মামলা না নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের একটি সূত্র দৈনিক ফেনীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত রোববার (৯ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এ আদেশ দেন।আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, দাগনভূঞার মোমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) তার স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন। আসামিরা হলেন-রাকিব হাসান হৃদয়, লোকমান হোসেন রিফাত, ইউসুফ আলী, রোহানা আক্তার রিছি ও বিবি আমেনা। থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।আদেশে আরও বলা হয়, মারজাহানকে আসামিদের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য তার স্বজনরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দাগনভূঞা থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন।শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেকটি মামলায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন। ওই মামলায় একজন নারীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। এ সময় নিহত নারীর ঝুলন্ত অবস্থার একটি ছবিও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় বাদী দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করতে চাইলে ওসি তাকে মামলা নিতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান।আদালত সূত্র আরও জানায়, দুটি ঘটনায় অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, এ আদেশের বিষয়টি শুনেছি। আমি আরও বিস্তারিত খোঁজ নেব।এ ব্যাপারে জানতে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান বলেন, এ ধরনের আদেশের বিষয় সাধারণত পুলিশ সুপার দেখেন। সেজন্য বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা উঠে এসেছে। সেই হিসেবে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়েছিল। কিন্তু নিহতের পরিবার পরবর্তীতে প্রতিকার চেয়ে আদালতে গিয়েছেন।ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, এ ধরনের আদেশের কোনো পত্র এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টি এখনো অবগত না।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী