প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ফতেহপুরে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত
আদালত প্রতিবেদক ||
ফেনীর ফতেহপুরে মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন (২৪) নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে নিহতের ভাই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ছিনতাই চেষ্টা ও সড়ক পরিবহন আইনে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে, সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফতেহপুর ফ্লাইওভার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় ইয়ামিনের মৃত্যু হয়। নিহত ইয়ামিন ফেনী পৌরসভার চাঁড়িপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি এস অ্যান্ড বি ফুড ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মহিপাল চৌধুরী বাড়ির বাসায় আসার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।নিহতের পরিবারের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়ামিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু খবর প্রচার করা হয়। অন্যদিকে, সেদিন ঘটনার পর ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ইয়ামিনকে প্রথমে আনার পর তার স্বজনরা ছিনতাইকারীর হাতে মৃত্যুর দাবি করেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানায়। যদিও পরবর্তীতে নিহতের স্বজনরা এমন দাবির কথা প্রথমে অস্বীকার এবং পরে ভুল তথ্য জেনেছিলেন বলে জানায়।নিহতের ভাই অনিক বলেন, ইয়ামিন আহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে যাই। সেখানে ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানতে পারি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি গাড়ি ইয়ামিনকে জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ইয়ামিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে শেষ সময়ে আমি ইয়ামিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন ইয়ামিন দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার কথা জানান। পরে সীতাকুণ্ড এলাকায় পৌঁছালে ইয়ামিনের দেহ শীতল হয়ে আসতে থাকে। এ অবস্থায় আবার দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে কর্মরত ডোম আব্দুর রহিম সুরতহাল শেষে বলেন, ইয়ামিনের শরীরে কোনো ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে শরীরে দুর্ঘটনায় থেঁতলানোর চিহ্ন এবং একটি পা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী