প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
রাতের আঁধারে কাটা হলো কহুয়া নদীর চর, মাটি গেল ইটভাটায়
পরশুরাম প্রতিনিধি ||
পরশুরামে রাতের আঁধারে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর কেটে মাটি ইটভাটায় নিয়ে গেছে একটি চক্র। গত শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কাপ্তান বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরশুরাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে মাটি কেটে স্থানীয় খন্ডল ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে উপজেলা ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিমাপ করে চর কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পান।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাতে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর থেকে মাটি কেটে তা স্থানীয় খন্ডল ব্রিকফিল্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম।গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং পাউবোর পরশুরাম উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে যান। ভূমি অফিসের লোকজন বেড়িবাঁধের যে অংশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে, সেটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করেন। পাউবো ও ভূমি অফিসের পৃথক পরিদর্শনেও চর কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মাটি পরিবহনের কারণে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে।এদিকে খন্ডল ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহিম বলেন, ১০ থেকে ১২ গাড়ি মাটি ব্রিকফিল্ডে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের বাধায় আর মাটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। কারা মাটি বিক্রি করেছেÑএ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে তা অন্যত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। যেকোনো সময় কহুয়া নদীর পানি বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বাঁধের মাটি কেটে নেওয়ায় সেটি দুর্বল হয়ে পড়লে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকার মানুষ বন্যা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দৈনিক ফেনীকে বলেন, চর থেকে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া। তিনি জানান, চর থেকে মাটি কাটার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী