প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
১৪ মামলায় চার্জশিট, ২টিতে বিচার শুরু
এমএ জাফর ||
গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। তার মধ্যে ৬টি হত্যা ও ৮টি হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে পুলিশ। আর বিচারাধীন রয়েছে ২টি মামলা। ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয় ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।এ ব্যাপারে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দৈনিক ফেনীকে জানান, ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ইতোমধ্যে ১৪টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে জাকির হোসেন শাকিব হত্যা মামলা ছাড়া অন্য ৬টি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে আহত তাজিম উদ্দিন, আবদুল হান্নান, মহিউদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, একরামুল হক, নাহিদুর রহমান, মো. নাসির উদ্দিনসহ ৮টি হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে ফেনী আদালতের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১২টি মামলার অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৫টি হত্যা মামলা ও ৭টি হত্যাচেষ্টা মামলা। তার মধ্যে ৪টি মামলার চার্জশিট আদালতে গ্রহণ করা হয়েছে, ৮টি মামলার চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে মো. সবুজ ও মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সবুজ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আন্দোলনে ওয়াকিল আহমেদ শিহাব ও ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেজবাহ উদ্দীন খাঁন দৈনিক ফেনীকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সবুজ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় এখনো চার্জ গঠন করা হয়নি। চার্জ গঠন করা হলে আদালতের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করবে। মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার শিশু আদালতে করা হবে।ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মাসুম ও শিহাব হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কাজ শুরু হয়েছে। মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।ধরাছোঁয়ার বাইরে ১৪শ’ আসামিফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার ১ হাজার ৪০০ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। উদ্ধার করা যায়নি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মোট ২২টি মামলায় ২ হাজার ৫০৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ১৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারমধ্যে এজাহারনামীয় ২২৩ জন, সন্দেহভাজন ৯৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলাম।এ প্রসঙ্গে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, ইতোমধ্যে অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে কারাগারে, আবার অনেকে জামিনে রয়েছেন। অনেক আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। থানা থেকে লুট করা অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোতে দুইটি অংশ রয়েছে। এরমধ্যে বিস্ফোরক আইনে ধারা যুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, যেসব মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, সেইসব মামলার দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি। ৪ আগস্ট মহিপালে নির্বিচারে যারা গুলি করেছে, সেইসব অস্ত্রধারী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী