প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
অচল ফিলিং স্টেশন, নিভে গেছে হাজারো চুলা
তারেক চৌধুরী ||
জাতীয় গ্রিড থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে ফেনীতে গ্যাস সংকট দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ সংকটে জেলার প্রায় সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন, আবাসিক ও শিল্প-সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ তিন জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আবাসিক গ্রাহক থেকে শুরু করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ পাওয়ার-সব খাতেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শনিবার রাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পারেননি। এতে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেসব যানবাহন চলাচল করছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।অন্যদিকে, বাসাবাড়িতেও একই চিত্র। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে দৈনন্দিন রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।শহরের নাজির রোড এলাকার গৃহিণী রাবেয়া সুলতানা বলেন, এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম থাকে। তারমধ্যে শনিবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ। বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে এনেছি। বাজারে ১ হাজার ৬০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনের রান্নাবান্না নিয়ে যে কী দুর্ভোগে আছি, তা বলে বোঝানো যাবে না।শহরতলীর দাউলপুল এলাকার আবাসিক গ্রাহক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, চুলায় গ্যাস পাব না, অথচ মাসের শেষে লাইনের বিল এক টাকাও কম দেওয়া যাবে না। বিল না দিলে সংযোগ কেটে দেওয়ার ভয় থাকে। সরবরাহ যদি ঠিকই না থাকে, তবে আমাদের থেকে কেন নিয়মিত পুরো বিল আদায় করা হবে? সরকারিভাবে গ্যাস না দেওয়া পর্যন্ত এই বিল বাতিল বা স্থগিত রাখা উচিত।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন নজির আহমেদ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা সিএনজি অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৪ ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে স্টেশনে লাইন ধরে অপেক্ষা করছি। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই স্টেশনে এসে জানতে পারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। গাড়ি চালাতে না পারলে দিনশেষে মালিকের জমার টাকা দিব কোথায় থেকে? আর পরিবারের জন্য বাজার নিয়ে যাবো কীভাবে?একই স্টেশনে অপেক্ষমাণ আরেক চালক আবদুল জলিল বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত গ্যাসের এ সংকট সমাধান না করলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।পথচারী রবিউল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সড়কে যাত্রী থাকলেও গাড়ি একদম নেই বললেও চলে। যেসব পরিবহন চলাচল করছে সেখানেও দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। সবমিলিয়ে আমরা সাধারণ মানুষ চারদিক থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।ফেনীর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বিপুল শর্মা বলেন, আমাদের তিনটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা ছিল। কিন্তু শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে লাইনে আর কোনো গ্যাস না থাকায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, আগামী ১০ আগস্টের আগে এ সংকট স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনী কার্যালয়ের বিক্রয় শাখার ব্যবস্থাপক কিরণ শংকর পাল বলেন, ফেনীতে আমাদের আওতাধীন আবাসিক গ্রাহক রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে শহর ও সদর উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার। এছাড়া রয়েছে ১২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৮-২৯টি শিল্পকারখানা এবং ৫-৭টি ক্যাপটিভ পাওয়ার ইউনিট। জাতীয় গ্রিড থেকে পুরো সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রায় সব ধরনের গ্রাহকই ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও গ্যাসের চাপ কম, আবার কোথাও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে দেশীয় গ্যাসফিল্ড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। আবাসিক এলাকায় কোথাও কোথাও চুলা জ্বললেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। দু-একটি ছাড়া ফেনীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত না হলে এ সংকট দীর্ঘ হতে পারে।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনী কার্যালয়ের সঞ্চালন বিভাগের ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোস্তফা ইমরান বলেন, মূলত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি শুধু ফেনীর সমস্যা নয়, জাতীয়ভাবে একই সমস্যা। কখন থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।২৪ ঘণ্টা লাইনে থেকেও মিলছে না গ্যাস, আয় বন্ধ সিএনজি চালকদেরফেনীর চলমান গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের ওপর। জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কেউ কেউ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতেই ফিরছেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের দৈনিক আয়-রোজগার। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে সংকট।নজির আহমেদ ফিলিং স্টেশনে রোববার গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা সিএনজি অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করছি। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্টেশনে এসে জানতে পারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। এতে গাড়ি চালাতে না পারায় দিন শেষে মালিকের জমার টাকা দেওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছি।ইব্রাহিম নামে আরেক সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, লাইনের গ্যাস বন্ধ রয়েছে। বিকল্প ব্যবহারে চালালেও আমাদের খরচ উঠবে না। একপ্রকার নিরুপায় হয়ে গেছি। সরকার দ্রুত গ্যাসের এ সংকট সমাধান না করলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।গ্যাস সংকটের কারণে শুধু চালকেরাই নন, দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহন কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।পথচারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধের অজুহাতে সড়কে চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। দিনশেষে সাধারণ মানুষেরই সকল ভোগান্তি। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। দু-একটি ছাড়া ফেনীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবহন খাতে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।দ্বিমুখী চাপে আবাসিক গ্রাহকফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। রোববার সকাল থেকে অনেক বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে রান্নার ব্যবস্থা করেছে। তবে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় বাড়ছে সংসারের খরচও।নাজির রোড এলাকার গৃহিণী রাবেয়া সুলতানা বলেন, শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১ হাজার ৬০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি রান্নাবান্না নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।শহরতলীর সালাউদ্দিন এলাকার আবাসিক গ্রাহক মারুফ হোসেন বলেন, নিয়মিত গ্যাস না পেলেও কেন পুরো বিল পরিশোধ করতে হবে? সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অন্তত গ্যাস বিল স্থগিত বা মওকুফের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একদিকে দিনের পর দিন গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ মিলছে না, অন্যদিকে রান্নার বিকল্প হিসেবে এলপিজি কিনতেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অথচ গ্যাসের নিয়মিত বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকায় তারা কার্যত দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনী কার্যালয়ের বিক্রয় শাখার ব্যবস্থাপক কিরণ শংকর পাল বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে পুরো সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রায় সব ধরনের গ্রাহকই ভোগান্তিতে পড়েছেন। আবাসিক এলাকায় কিছু কিছু স্থানে চুলা জ্বললেও অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক নেই। দৈনিক চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না গ্যাসজাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন খাতে। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় কোথাও সরবরাহ কমে গেছে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনীর বিক্রয় শাখা সূত্রে জানা যায়, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট।ফেনীতে কোম্পানিটির আওতায় প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে শহর ও সদর উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার। এছাড়া রয়েছে ১২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৮-২৯টি শিল্পকারখানা এবং ৫-৭টি ক্যাপটিভ পাওয়ার ইউনিট।এটি শুধু ফেনীর নয়, জাতীয় সংকট—বলছে বাখরাবাদফেনীর চলমান গ্যাস সংকটকে স্থানীয় কোনো সমস্যা নয়, বরং জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।প্রতিষ্ঠানটির ফেনীর সঞ্চালন বিভাগের ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোস্তফা ইমরান বলেন, মূলত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি শুধু ফেনীর সমস্যা নয়, জাতীয়ভাবে একই সমস্যা। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। কখন থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।তিনি জানান, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ফেনীতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ পাওয়ার ইউনিটে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত করে জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী