প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
'গণতন্ত্র বিকাশে নির্ভীক সাংবাদিকতা অপরিহার্য'
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনীর সাংবাদিকতা জগতের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ওছমান হারুণ মাহমুদ দুলাল ছিলেন সত্য, সাহস ও নির্ভীকতার প্রতীক। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি অন্যায়, অনিয়ম ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে লেখনী চালিয়েছেন। ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পেছনে না ছুটে তিনি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার কর্ম ও পেশাগত আদর্শের কারণে তিনি ফেনীর মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) শহরের গ্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে দৈনিক ফেনীর উদ্য্যোগে আয়োজিত ওসমান হারুণ মাহমুদ দুলালের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন বিশিষ্টজন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অনুষ্ঠানে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ওছমান হারুণ মাহমুদ দুলাল ফেনীর সাংবাদিকতা জগতের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কর্মই মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। নিজের কর্ম ও পেশার মাধ্যমে তিনি মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। ফেনীর সাংবাদিকতাকে তিনি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে তার এই চলার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। সত্য প্রকাশে তিনি ছিলেন অটল, আর এ কারণেই তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তার মতো সাহসী ও নীতিবান সাংবাদিকদের সমাজে সবসময় প্রয়োজন।বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন বলেন, দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। আমরা একই স্কুলে পড়াশোনা করেছি। স্কুলজীবনে তিনি আমাদের স্কাউটের কমান্ডার ছিলেন। যুগে যুগে সাংবাদিকরা তাদের লেখনী দিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফেনীর জনপদের জন্য দুলাল ভাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাকে হারানো আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, দুলাল ভাইয়ের অন্যতম গুণ ছিল নির্ভীকতা ও আপসহীন সাংবাদিক। ফ্যাসিবাদী আমলে তিনি তার সাংবাদিকতার মাধ্যমে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ওছমান হারুণ মাহমুদ দুলাল ছিলেন একজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক। দৈনিক জনকণ্ঠে কাজ করার সময় তিনি ফ্যাসিবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী বলেন, দুলাল ভাই কখনো ক্ষমতার পেছনে দৌড়াননি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পেছনেও ছোটেননি। তিনি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পেছনে ছুটেছেন। আমি দুলাল ভাইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক বলেন, ওসমান হারুণ মাহমুদ দুলাল একজন সৎ, সাহসী ও নীতিবান সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়, অনিয়ম ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বাায়ক নাছির উদ্দিন খন্দকার বলেন, ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই দুলাল ভাইকে চিনতাম। দুলাল ভাই আমাকে সবসময় রাজনীতির পাশাপাশি জীবনে কিছু করার জন্য চেষ্টা করতে বলতেন। তার সেই অনুপ্রেরণা আমার জীবনে অনেক কাজে এসেছে। ফেনীর মানুষের জন্য দুলাল ভাই ছিলেন একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি আশরাফুল হায়দার বলেন, বর্তমানে সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিষ্ঠা ও সত্য কথা বলার মানুষ। ফেনীতে যখন মানুষ হত্যা, নানা ধরনের দাঙ্গা ও অস্থিরতা চলছিল, তখন ওসমান হারুণ মাহমুদ দুলাল আধুনিক ভাষায় তার লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফেনীর মাটি থেকে ভবিষ্যতে দুলাল ভাইয়ের মতো আরও বলিষ্ঠ সাংবাদিক উঠে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন বলেন, দুলাল ভাই ছিলেন সাংবাদিকতার একজন আইকন। তার মৃত্যুতে ফেনীর সাংবাদিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়েছে। তবে তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন।জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি দুলাল ভাইকে একজন নির্লোভ সাংবাদিক হিসেবে দেখে আসছি। তার লেখনী দেখেই বোঝা যেত, তিনি ছিলেন সৎ ও সাহসী। সাংবাদিকরা যদি দুলাল ভাইয়ের মতো নির্লোভ ও নীতিবান হন, তাহলে দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজ আরও সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে।ফেনী জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মামুন বলেন, ওছমান হারুণ মাহমুদ দুলাল ছিলেন একজন সৎ, নির্ভীক ও আপসহীন সাংবাদিক। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তার সাহসী ভূমিকা আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামুল হক ভূঁঞা বলেন, অনিয়ম ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দুলাল ভাই সবসময় অটল ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও চৌকস সাংবাদিক। সংবাদকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন বলেই রাষ্ট্রের কাঠামো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে।ফেনী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ওছমান হারুণ মাহমুদ দুলাল ছিলেন একজন সৎ, সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তার লেখনীকে ব্যবহার করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সাংবাদিকরা সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে থেকে মানুষের কথা তুলে ধরেছেন এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল সব রাজনৈতিক দলের ক্ষমতকালীন সময়ে বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন। এর জন্য বিভিন্ন সময়ে মামলা-হামলারও শিকার হয়েছেন। এমন আয়োজনের জন্য দৈনিক ফেনীকে ধন্যবাদ।প্রয়াত ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছেলে রুথান মাহমুদ পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমার বাবার প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দেখে আমি গর্বিত। আমার বাবা জীবনে খুব বেশি অর্থ-সম্পদ উপার্জন করেননি। আমাদের কখনো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখাননি বরং সবসময় সততা ও সত্যবাদিতার পক্ষে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী