প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
সরু সেতুতে ৫ শতাধিক পরিবারের ভোগান্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফুলগাজী ||
ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মানুষের কাছে গঠিয়া খালের ওপর নির্মিত একটি সরু সেতু স্থানীয়দের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩৫ বছর আগে নির্মিত সেতুটি সংস্কার বা প্রশস্ত না করায় চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং মুন্সীরহাট বাজার থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের কুতুবপুর রাস্তার মাথার পশ্চিমে অবস্থিত কুতুবপুর গ্রাম। গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় দেশখ্যাত সাংবাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এবিএম মুসার বসতবাড়ির উত্তর পাশে গঠিয়া খালের ওপর নির্মিত এই সেতুই প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ।
স্থানীয়রা জানান, প্রয়াত সংসদ সদস্য ও সাংবাদিক এবিএম মুসার উদ্যোগে প্রায় তিন যুগ আগে সেতু ও সড়কটি নির্মিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার বা সম্প্রসারণ হয়নি। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অবকাঠামোটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কাদা এবং জমে থাকা পানির কারণে চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, কৃষক ও বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, রোগী হাসপাতালে পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়াও হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের।
স্থানীয়রা জানান, গঠিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এতটাই সরু যে টমটম চলাচলেও কষ্ট হয়। বড় কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর একটি টমটম পাওয়া গেলেও তা এলাকার মানুষের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অধিকাংশ মানুষকে হেঁটেই মুন্সীরহাট বাজার কিংবা কুতুবপুর রাস্তার মাথায় যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হুদা মিয়া বলেন, “এই সেতু আর রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের প্রতিদিন কষ্ট করতে হয়। কত মানুষ এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে, কিন্তু আজও কোনো কাজ হয়নি। আমরা একটি প্রশস্ত সেতু ও ভালো রাস্তা চাই।”
ছেরাজ আমিন বলেন, “অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে, কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে কিংবা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষা এলে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। জরুরি সময়ে কোনো বড় গাড়ি এ পথে চলাচল করতে পারে না।”
এলাকাবাসী জানান, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল কুতুবপুর গ্রামে চার সহোদরের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় সরু ও জরাজীর্ণ সেতুর কারণে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে প্রায় ৪০০ মিটার দূরের গঠিয়া খাল থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল।
এ ঘটনার পর ২০২১ সালের ২ জুন দৈনিক ফেনী পত্রিকায় ‘সরু ব্রিজের কারণে বিঘ্নিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মুন্সীরহাটের কুতুবপুরে প্রশস্ত ব্রিজের দাবি এলাকাবাসীর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও পাঁচ বছরেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ বলেন, “কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কটি সরকারি (জিওবি) প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এছাড়া উপজেলার সরু সেতুগুলোর তালিকাও প্রকল্পের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে গঠিয়া খালের ওপর নির্মিত অপ্রশস্ত সেতুর পরিবর্তে নতুন ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতু ও সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হলে পাঁচ শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন সময়ে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাও নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী